বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » ৫৭ মাসে পাঁচবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল,এবার মামলা পিবিআইতে হত্যাকাণ্ডের স্থান, তনুদের পুরোনো বাসভবন ও জাহিদের বাড়ি পরিদর্শন


৫৭ মাসে পাঁচবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল,এবার মামলা পিবিআইতে হত্যাকাণ্ডের স্থান, তনুদের পুরোনো বাসভবন ও জাহিদের বাড়ি পরিদর্শন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.11.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ৫৭ মাস পূর্ণ হবে ২০ নভেম্বর। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত হতে চললেও কোনও কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে যতবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়, ততবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন আর তনুর পরিবারের সাথে কথা বলে দায় সারেন তারা। সর্বশেষ পাঁচবারের মতো তদন্ত কর্মকর্তা বদল হওয়ার পর একই ঘটনা ঘটেছে। পিবিআইয়ের হাতে মামলার তদন্তভার দেওয়ার পর ১৫ নভেম্বর তনুর বাবা ক্যান্টনবোর্ড বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনকে নিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার স্থল, তনুদের পুরোনো বাসভবন, অভিযুক্ত সার্জেন্ট জাহিদের বাড়ি পরিদর্শন করে পিবিআইয়ের একটি টিম। এদিকে চারবার স্থানীয় কর্মকর্তাদের হাতে মামলার তদন্তভার দেওয়া হলেও এবার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার একটি টিমকে। এর আগে মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সিআইডি কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ।
এদিকে তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ এ সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তনুর মা-বাবাসহ পুরো পরিবার। বিচার পাওয়ার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম।
আনোয়ারা বেগম বলেন,‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলে তারা হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে, আমাদের সাথে কথা বলে চলে যায়। এরপর আর কোনও খবর থাকে না। খুনিরা আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।’
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন,‘ মনে হয় আর বিচার পামু না বাবা। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম।’
সাংস্কৃতিক সংগঠক আলী আকবর মাসুম বলেন,‘কেন এতবার তদন্ত কর্মকর্তা ও সংস্থা পরিবর্তন করা হচ্ছে তা জনসম্মুখে খোলাসা করা উচিত। এই মামলা তদন্তে সমস্যা কোথায় জনগণ তা জানতে চায়। আমরা চাই দ্রুত যেন আসামি শনাক্ত করা হয়।’
পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, ‘প্রায় দুই মাস আগে তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ভার পিবিআই ঢাকার একটি টিমকে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের কোনও অগ্রগতি নেই।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভিক্টোরিয়া কলেজসহ পুরো বাংলাদেশ। প্রায় ৫৭মাসে পুলিশ,ডিবি,সিআইডি ও সর্বশেষ পিবিআইসহ পাঁচজন কর্মকর্তা বদল হয়। দীর্ঘ এ সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন আর কলেজের কয়েকজন নাট্যকর্মী ও তনুর বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি তারা।