শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ‘এমভি ইকরাম’ চাঁদপুরেই সংরক্ষণের দাবি


মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ‘এমভি ইকরাম’ চাঁদপুরেই সংরক্ষণের দাবি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
22.11.2020

চাঁদপুর প্রতিনিধি।।
হানাদার বাহিনীর জাহাজ এমভি ইকরাম। চাঁদপুরে এটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া পাক হানাদার বাহিনীর জাহাজ এমভি ইকরাম চাঁদপুরেই সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে এক যুগ আগে উদ্ধার করা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এ জাহাজটি এখনও সংরক্ষণ না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। এ জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ায় নেতৃত্বদানকারী মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীর প্রতীক জোর দাবি জানিয়েছেন, এমভি ইকরাম যা স্থানীয় পর্যায়ে এমভি লোরাম নামে পরিচিত তা চাঁদপুরেই সংরক্ষণ করা হোক।
কয়েক বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় নারায়ণগঞ্জের কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডে পড়ে থাকা জাহাজটি বুধবার পরিদর্শনে গিয়ে তা সংরক্ষণের সম্ভাব্য দু’টি জায়গা হিসেবে চাঁদপুর অথবা মাদারীপুরের কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। একইদিন সংরক্ষণ কমিটির প্রথম বৈঠকে থাকা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও মাদারীপুর সদর আসনের এমপি শাহজাহান খান জাহাজটি সংরক্ষণ বিষয়ে কথা বলেন। তবে জাহাজ সংরক্ষণে মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর তা চাঁদপুরেই সংরক্ষণের জন্য আবারও দাবি জানালেন মুক্তিযোদ্ধারা।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের নৌ কমান্ডো এবং অবসরপ্রাপ্ত সচিব মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীর প্রতীক বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রসদ বহনের কাজে নিয়োজিত এই জাহাজটি ১৯৭১ সালের অক্টোবরে চাঁদপুরে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মাইন বিস্ফোরণ করে ডুবিয়েছি। দীর্ঘদিন সেটি নদীতে নিমজ্জিত ছিল। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর ডাকাতিয়া নদীর তলদেশ থেকে সেটি উত্তোলন করা হয়। এরপর আমরা মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজটিকে চাঁদপুরেই সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন করি। কিন্তু হঠাৎ জানা গেল জাহাজটি উধাও। পরবর্তীতে জানতে পারি, জাহাজটি নারায়ণগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ডে কাছে এটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে অযত্ন-অবহেলায় নারায়ণগঞ্জের কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডে পড়ে আছে জাহাজটি। পরবর্তীতে এ জাহাজটি নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারও জাহাজটিকে চাঁদপুরে সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেয়। বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্টরাও এ নিয়ে অনেকবারই বৈঠকে বসে। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও জাহাজটি চাঁদপুরে আসেনি। এছাড়া এটিকে সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর করার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তাও বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের জোরালো দাবি হচ্ছে- চাঁদপুরের ডাকাতিয়ায় যেখানে এটিকে ডুবানো হয়েছিল সেখানে অথবা নৌ টার্মিনাল সংলগ্ন কোনও স্থানে এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে। আমি মনে করি, মুজিববর্ষের মধ্যেই জাহাজটি চাঁদপুরে নিয়ে এসে এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দরে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল জানালেন, মন্ত্রী মোজাম্মেল হক এবং সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান সম্ভাব্য স্থান হিসেবে মাদারীপুরের বিআইডব্লিউটিএ-এর নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (এসপিটি) এবং চাঁদপুরের মেঘনা অঞ্চলে সেটি সংরক্ষণের কথা বলেছেন।
যুদ্ধ জাহাজ ইকরাম ডোবানোর সঙ্গে যুক্ত আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং এই জাহাজ সংরক্ষণ কমিটির অন্যতম সদস্য শাহজাহান কবির বীর প্রতীক বলেন, আমি বুধবার মন্ত্রীকে বহনকারী জাহাজেই এ সংক্রান্ত প্রথম মিটিংয়ে যোগদান করেছি। সেখানে জাহাজ সংরক্ষণে জায়গা নিয়ে সংক্রান্ত অনেক কথাবার্তা হয়। জাহাজটি মাদারীপুর নেওয়ার প্রস্তাব করেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সাহেব। তিনি চাঁদপুরের কথাও বলেন। তবে আমার প্রস্তাব ছিল, এটি চাঁদপুরেই সংরক্ষণ করার।
তিনি আরও জানান, এটি সংরক্ষণ ও শেড তৈরির জন্য সরকার বিআইডব্লিউটিএ’কে ৯০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা প্রদান করেছিল। তবে সে টাকাও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর সংরক্ষণ এবং জাদুঘর তৈরির জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এখন এটি কোথায় সংরক্ষণ করা হবে এর জন্য একটি টিম খুব শীঘ্রই এলাকাগুলো পরিদর্শন করবে বলে সভায় জানানো হয়।
তিনি আরও জানান, আমাদের চাঁদপুরেই এটি রাখার অনেক ভালো স্থান রয়েছে এবং যেহেতু এটিকে চাঁদপুরেই ডোবানো হয়েছি- তাহলে সে স্থানেই এটি রাখলে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খুশি হবো।