রবিবার ২৪ জানুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » জনবল ও নানা সমস্যায় বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


জনবল ও নানা সমস্যায় বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.11.2020

বিল্লাল হোসেন, বরুড়া ।।
বরুড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পদের জনবলসহ চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক যন্ত্রপাতির অভাব বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন যাবত এসব সংকট সমাধান না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা গরীব সাধারণেরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ শয্যার হাসপাতালের মঞ্জুরিকৃত ১০ জন ডাক্তারের পদের মধ্যে চাকুরিতে অন্যত্র বদলি এবং প্রেশনজনিত কারণে গত প্রায় দুই বছর যাবত জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্টসহ (মেডিসিন) ৩টি ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেশনে রয়েছেন হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার। একই কারণে ৪টি মিডওয়াইফ পদের মধ্যে ২টি, একটি ক্যাশিয়ার পদ, ভান্ডার রক্ষকের পদ, স্বাস্থ্য সহকারি ৬০টি পদের মধ্যে ৩৭টি পদ, অফিস সহায়কের ৪টি পদ, ওয়ার্ড বয় ৩টি পদের মধ্যে ২টি এবং এরমধ্যে একজন কুমেক হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন, বাবুর্চি ২টি পদ, দারোয়ান পদ ২টি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৫টি পদের মধ্যে ২টি শূন্য রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় গত প্রায় ৪ বছর যাবত এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা এক্স-রে সেবা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত প্রায় ১০ বছর আগে ডেন্টাল ইউনিটের ডেন্টাল চেয়ারটি ব্যবহারে অকেজো হয়ে যাওয়ায় নতুন একটি ডেন্টাল চেয়ারের সরবরাহ না হওয়ায় দন্ত বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা মানসম্মত চিকিৎসার পরিবর্তে যৎসামান্য ঔষধ আর ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য সহকারি পদে জনবলের অভাবে ই.পি.আই এবং টিকাদান কর্মসূচিসহ স্বাস্থ্য সেবা খাতে নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর আগে জরুরী বিভাগের ইমারজেন্সি লাইটটি অকেজো হয়ে যায়। ফলে ওই বিভাগে ৪০ ওয়াটের বৈদ্যুতিক বাল্বের সাহায্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নামমাত্র রোগীদের সেবা কার্যক্রম চলছে। ২০ শয্যার সোনাইমুড়ি হাসপাতালের ৫টি ডাক্তার পদের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্টসহ (গাইনী) ৪টি ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদের ডাক্তার প্রেষণে রয়েছেন। এছাড়া শূন্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সহকারি কাম হিসাবরক্ষক পদ, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদ, ফার্মাসিস্ট পদ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদ। অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫টি ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য সেন্টারের ৫টি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ১টি প্রায় ২ মাস যাবত শূন্য রয়েছে। আর একজন মেডিকেল অফিসার ঢাকা কোভিড হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন প্রায় ১ বছর যাবত। এছাড়া এসব সেন্টার সমূহের ৫টি মিডওয়াফ পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য রয়েছে এবং ২ জন অন্যত্র প্রেষণে রয়েছেন। ফার্মাসিস্ট ৫টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪টি পদ। ৫টি স্যাকমো পদের মধ্যে ২টি শূন্য এবং প্রেষণে রয়েছেন ১ জন। এ দিকে ৫টি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিয়োগকৃত অধিকাংশ ডাক্তারেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকা সমূহের গরিব সাধারণেরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সবমিলে দীর্ঘদিন বিরাজমান এসব সমস্যার সুরাহা না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিশাত সুলতানা বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদ শূন্য রয়েছে বেশি। এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন ও জিন এক্সপার্ট মেশিন স্থাপনের জন্য হাসপাতালের রুম সংস্কার কাজ চলিতেছে। অতি শীঘ্রই মেশিনগুলো সরবরাহ করে জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। এছাড়াও তিনি মেডিকেল অফিসারসহ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শূন্য পদগুলোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।