রবিবার ২৪ জানুয়ারী ২০২১


যে কারণে খুন হয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহির


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.11.2020

 ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা :আটক ১

মাহফুজ নান্টু।।
কুমিল্লার বরুড়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্যের খবর জানতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নানা তথ্য। অপরদিকে, খুনের ঘটনায় রাতেই নিহতের ছোট ভাই জোবায়ের বাদী হয়ে বরুড়া থানায় পাঁচজনের নামোল্লেখ করে এবং আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
মামলার আসামিরা হলেন, জীবনপুর গ্রামের আবাদ হোসেন, তার ছেলে মাসুদ,মারজাহান ও আবাদ হোসেনের মামাতো ভাই ফারুক। তাদের মধ্যে পুলিশ ফারুককে আটক করেছে। অন্য আসামিদের আটকে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার মজুমদার ।
এদিকে পরিবার সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে জহিরুল ইসলামের লাশ দাফন করা হয়।
এ দিকে, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহিরুল ইসলামের হত্যার নেপথ্যে কারণ জানতে এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে নানা তথ্য।
কেন এ হত্যাকাণ্ড? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জীবনপুর গ্রামের আবদুল মালেকের পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। গত দেড় বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন আবদুল মালেকের বড় ছেলে জহিরুল ইসলাম ৷ লকডাউনের কারনে আর সৌদি ফিরতে পারেননি। রাজনীতিতে সক্রিয় হন জহিরুল ইসলাম। গত ৬ নভেম্বর বরুড়া পৌরসভার ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন জহিরুল ইসলাম। পাড়া মহল্লায় ঘুরে বেড়াতেন। রাজনীতি চর্চা করতেন। সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো জীবনপুর গ্রামের আবাদ হোসেনের সাথে প্রতিবেশী সিব্বির আহমেদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারো তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় পৌর সভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহসভাপতি মো. রানা ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জীবনপুর এলাকায় যান। চায়ের দোকানে বসেন।
এ সময় জীবনপুর গ্রামের আবাদ হোসেন তার ছেলে মাসুদের সাথে সিব্বির আহমেদের সাথে ঝগড়া বাড়তে থাকে। এগিয়ে যান রানা। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোক মনে করে রানাকে টেঁটাবিদ্ধ করা হয়। আহত রানাকে উদ্ধার করতে গেলে জহিরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় আবাদ হোসেন ও তার ছেলে মাসুদ। হাতে থাকা ছেনি দিয়ে জহিরুল ইসলামের মাথায় কোপ দেয় মাসুদ। ছেনির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জহিরুল ইসলাম। পরে তাকে আবারো বেধড়ক পেটাতে থাকে মাসুদ।
পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জহিরুল ইসলাম ও রানাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করে। নিহত জহিরুল ইসলাম জিনসার গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। আহত রানা একই গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে। জীবনপুর গ্রামের অন্তত কুড়িজন বাসিন্দা জানান, জহিরুল ইসলামের সাথে কারো রাজনৈতিক বা ব্যক্তি দ্বন্দ্ব ছিলো না।
বরুড়া পৌরসভা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, গত ৬ নভেম্বর যে কমিটি দেয়া হয় ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রানা ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জহিরুল ইসলাম। ইব্রাহিম খলিল বলেন, কিছু দিন আগে একটি মটর সাইকেল দুর্ঘটনার সালিস করেন নিহত জহিরুল ইসলাম। ওই সময় সালিস মেনে নিতে পারে নি মাল জুবায়ের। তার বাড়ি দক্ষিণ শিলমুড়ি ইউনিয়নের শিয়ালারা গ্রামে।
মাল জুবায়েরর সাথে জীবনপুর গ্রামের আবাদ হোসেন ও তার ছেলে মাসুদের সাথে সুসম্পর্ক ছিলো।বৃহস্পতিবারের ঘটনার শুরুতে মাল জুবায়ের প্রথমে জহিরুল ইসলামের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এ সময় আবাদ ও তার ছেলে মাসুদ সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এতে জহিরুল ইসলাম নিহত হয়। নিহত জহিরুল ইসলামের মা জানান, আট বছর আগে জহিরুল ইসলামের সাথে স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়। জহিরুলের ৮ বছর বয়সী রুপক নামে একটি ছেলে রয়েছে। সন্তান হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার চান জহিরুল ইসলামের মা। নিহত জহিরুলের ছোট ভাই জোবায়ের জানান, দেড় বছর আগে সৌদি থেকে দেশে আসেন জহিরুল। লকডাউনের কারনে সৌদি ফিরে যেতে পারেননি। এখন আবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সৌদিতে ফিরে যাবেন। খুনিরা আমার ভাইকে না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দিলো। জুবায়ের তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চান।
বরুড়া থানা অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় জীবনপুর গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে ফারুককে আটক করি। আটক ফারুক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আবাদের মামাতো ভাই। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলাম। পরে নিহত জহিরুল ইসলামের পরিবারকে সান্ত¦না দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যারাই এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে আটক করা হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বরুড়া পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রানা আহত হয়। শিলমুড়ী (উঃ) ইউনিয়ন জীবনপুর গ্রামের হাসেম মার্কেটের ছানাউল্লাহর চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।