বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১


কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.12.2020

#৩৯ পদবির ২৩টিই দখলে নিয়েছে মুরাদনগর-দেবিদ্বার
#গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই হোমনার কেউ

চান্দিনা প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষার পর অবশেষে অনুমোদন হলো কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী পূর্ণাঙ্গ কমিটি। মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী স্বাক্ষরিত ভাইটাল ৩৯টি পদ ও ৩৬টি সদস্য পদের সমন্বয়ে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে আধিপত্য বিস্তার করছে মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক ওই জেলায় দুই উপজেলার আধিপত্যকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন অন্যান্য উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। গত এক বছর আগে মুরাদনগর উপজেলা থেকে সভাপতি ও দেবিদ্বার উপজেলা থেকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ায় ওই দুই নেতার প্রভাব লবিং-তদবীরকে কাজে লাগিয়ে ৭৫ সদস্যের কমিটির সিংহভাগ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন ওই দুই উপজেলার নেতৃবৃন্দ। যার ফলে কোন কোন উপজেলায় কাক্সিক্ষত পদ-পদবি পায়নি অনেক যোগ্য নেতৃবৃন্দ। আর গুরুত্বপূর্ণ ৩৯টি পদের একটিও জোটেনি হোমনা উপজেলায়। অনুমোদিত ওই কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপজেলায় পদ পেয়েছেন ২৩ নেতা। এদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী মাস্টারের নিজ উপজেলা দেবিদ্বার থেকে পদ পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৪জন। ওই উপজেলায় সদস্য পদ পেয়েছেন আরও ৪জন। অপরদিকে সভাপতি মু. রুহুল আমিন এর নিজ উপজেলা মুরাদনগরে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন ৯জন। এছাড়া ওই উপজেলায় সদস্য পদ পেয়েছেন আরও ৯জন। পরিসংখ্যান মতে ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রায় ৬০শতাংশ পদই দখলে নিয়েছেন ওই দুই উপজেলা। এদিকে কুমিল্লা উত্তর জেলার রাজনৈতিক সদর চান্দিনা উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও ওই উপজেলায় ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে পেয়েছে মাত্র ৩জন নেতা। তবে সদস্য পদ পেয়েছেন ৭জন। হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান আবুল অনেকটা হতাশা প্রকাশ করে বলেন- এখন তো আর কিছু বলে লাভ নেই। কমিটি প্রসঙ্গে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু বলেন- কমিটিতে বৈষম্য করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে এমন অনেকে আছেন যারা ইউনিয়ন বা থানা কমিটিতেও নেই। গত কমিটিতে যারা জেলা কমিটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকেই এবারের কমিটিতে নেই। শুধু চান্দিনাতেই নয়, অন্যান্য উপজেলার ক্ষেত্রে একই বৈষম্য দেখা গেছে। ৭টি উপজেলা থেকে যারা নেতৃত্বে এসেছেন। তাদের মধ্যে- মুরাদনগর উপজেলা ঃ এ উপজেলায় সভাপতি মু. রুহুল আমিন সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন ৯জন এবং সদস্য পদ পেয়েছেন আরও ৯জন। সহ-সভাপতি পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঈনুল হোসেন, আবু নাছের। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রানা। আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ তমাল, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাজিব, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বিশ্বজিৎ সরকার, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কায়সার সরকার। সদস্য পদে- ইউসুফ আব্দুল হারুন এমপি, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার, আলহাজ্ব হানুর আল রশিদ, সৈদয় আব্দুল কাইয়ূম খসরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আবুল কালাম আজাদ, আফজানুল নেছা বাসেত, রফিকুল ইসলাম, মো. আলমগীর কবির, জাকির হোসেন ভিপি।

দেবিদ্বার উপজেলা ঃ সাধারণ সম্পাদক পদে রৌশন আলী মাস্টার গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন সর্বোচ্চ ১৪জন। সদস্য আরও ৪জন। ওই উপজেলা থেকে সহ-সভাপতি হিসেবে কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম গোলাম মোস্তফা, এড. নিজামুল হক, আব্দুল মতিন মুন্সি, শেখ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবীদ্বার উপজেলার হুমায়ূন কবির, আবুল কালাম আজাদ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক দেবীদ্বারের কালাম চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক দেবীদ্বারের ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন আলম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক দেবীদ্বারের সাজেদা আক্তার মায়া, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেবীদ্বার উপজেলার সফিকুল আলম কামাল, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দেবীদ্বার উপজেলার এড. আয়েশা আক্তার, শিক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক দেবীদ্বার উপজেলার মো. নজরুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক দেবীদ্বার উপজেলার মো. ইসমাইল হোসেন। এছাড়া সদস্য হলেন- রাজি মোহাম্মদ ফখরুল এমপি, আব্দুল আলিম, মো. সহিদুল্লাহ, কালিপদ মজুমদার।
চান্দিনা উপজেলাঃ রাজনৈতিক সদর চান্দিনায় শুধুমাত্র সহ-সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ৩জন রয়েছেন। আর সদস্য রাখা হয়েছে আরও ৭জন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক চান্দিনা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সীর নাম রয়েছে। এছাড়া ৭ সদস্য হলেন- সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি, এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু, মো. মজিবুর রহমান, নাজনীন আক্তার, তানভির আহমেদ তানভির, কাজী গোলাম দস্তগীর পাপন, জাকির হোসেন আজাদ।
দাউদকান্দি উপজেলা ঃ এ উপজেলায় ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদসহ সদস্য পদ পেয়েছেন ৫জন। তারা হলেন- সহ-সভাপতি সাংবাদিক শাহজাহান, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান জয়, দাউদকান্দি উপজেলার রশিদুল আলম মিয়াজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ দাউদকান্দি উপজেলার নাঈম ইউসুফ সেইন। ধর্ষ বিষয়ক সম্পাদক মোতাহার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাঈম হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পারুল আক্তার। সদস্য হলেন- মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি, জাকির নেওয়াজ সোহেল, রকিকুল বসর মনি, মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, এড. আহসান হাবিব চৌধুরী লিল মিয়া।
তিতাস উপজেলা ঃ এ উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন ২জন। আর সদস্য পদ পেয়েছেন আরও ৫জন। তারা হলেন- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পারভেজ সরকার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরুন্নাহার পারভীন। সদস্য হলেন- তোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, শেখ ফরিদ, হাজী নাছির উদ্দিন, গোলাম সারওয়ার সরকার।
মেঘনা উপজেলা ঃ এ উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন ৩জন। সদস্য পদে এসেছেন আরও ২জন। তারা হলেন- বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস ছালাম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন শিশির। সদস্য হলেন- সফিকুল আলম, সাইফুল্লাহ মিয়া রতন শিকদার।

হোমনা উপজেলা ঃ উপজেলায় কোন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে না রাখলেও সদস্য হলেন- হোমনা উপজেলা সেলিমা আহমাদ মেরি, হোমনা উপজেলা অধ্যাপক আব্দুল মজিদ, হোমনা উপজেলার একেএম ছিদ্দিকু রহমান আবুল, হোমনা উপজেলার মহিউদ্দিন খন্দকার।