শনিবার ২৩ জানুয়ারী ২০২১


এবার কুবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের ফাটল, ভাস্কর্য ভাঙার পৃথক প্রতিবাদ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.12.2020

কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২০ এ শিক্ষকদের দুই গ্রুপের পৃথক দুটি নির্বাচন কমিশন ঘোষণার পর এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ লালনকারী শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদেও ফাটল ধরেছে।

রোববার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের সকল কার্যক্রমের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে ৫ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে শিক্ষকদের একাংশ। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের কোন কমিটি গঠনের সুযোগ নেই এমন দাবি করে এ কমিটির সাথে নিজেদের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন পুরানো কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন।

নতুন ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস উল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও প্রগতিশীল চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে সংবাদে সম্মেলনের মাধ্যমে এ কমিটি যাত্রা শুর করে। আহবায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, অর্থ সচিব পদে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, সদস্য পদে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান।

কমিটি গঠনের পর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও প্রগতিশীল চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দের প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন অস্তিত্ব নেই এবং পরিষদের কোন কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় অনিবার্য এবং সঙ্গত কারণে বিলুপ্ত কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে সাধারণ সদস্যদের বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় গত ৪ ডিসেম্বর পরিষদের সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের সকল কার্যক্রমের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়ে মতামত প্রদান করে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পরিষদের গঠনতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কার্যনির্বাহী পরিষদের ব্যানারকে ব্যবহার করে তৎকালীন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হীনস্বার্থে বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্যাড ব্যবহার করে নিজেদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে দ্বিধা বিভক্তির রাজনীতি ও ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করছেন।

এদিকে নতুন আহবায়ক কমিটির বিষয়ে পুরনো কমিটির সাধারণ সম্পাদক লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক থাকলে এ ধরনের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সুযোগ নেই। আর করতে হলেও তা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করবে। এখানে যে কমিটি হয়েছে তাকে আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি না, আর কেউ গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করলে কোন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আগেও এমন কমিটি করা হয়েছে এ দাবি করে তিনি আরও বলেন এদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আগে যেটা গঠন করা হয়েছিল এটাও তাদের কমিটি।

এর আগে গত উপাচার্য অধ্যাপক আলী আশরাফের শেষ সময়ে এসেও বঙ্গবন্ধু পরিষদে এমন ফাটল দেখা দেয়।

এদিকে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু পরিষদ নাম দিয়ে পৃথক প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষকদের এ দুটি দল।

দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের সামনে ‘সদস্যবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’র ব্যানারে মানববন্ধন করে নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্যরা।

মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদ জানানোর পর শিক্ষক সমিতির সভাপতি রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোন অস্তিত্ব নেই। এমনকি জাতির জনকের ভাস্কর্যের এত বড় অবমাননার পরও এ পরিষদের কেউ এতটুকু নিন্দা পর্যন্ত জানাতে আসেনি। তাই আমরা নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি করেছি।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি গঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কাজী ওমর সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়া উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ বিশ্বাস করে যে, বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙচুর এ প্রতিক্রিয়াশীল, স্বাধীনতা বিরোধী ও মৌলবাদ চক্রের অযৌক্তিক বক্তব্য কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেব প্রচার করার ঘৃণ্য অপপ্রয়াস। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রধানের দাবি জানায়।

উল্লেখ্য, শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০২১ এর নির্বাচনেও পৃথক দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে শিক্ষকদের দুটি দল।