শনিবার ২৩ জানুয়ারী ২০২১


কুমিল্লায় এমপি বাহার ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছেন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.12.2020

সংবাদ সম্মেলনে এমপি সীমার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার।।
গত ৩ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এসবের প্রতিবাদে গতকাল রোববার নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য,কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি সীমা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে গোলাম জিলানী হত্যাকাণ্ড, কুমিল্লা টাউন হল, মর্ডান হাই স্কুল, কুমিল্লার রাজনীতি, দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, কুমিল্লায় এমপি বাহার ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছেন। তিনি হুমকি ধমকি দিয়ে মানুষকে চাপে রাখেন। এ সময় সীমার ভাই কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মাসুদ পারভেজ ইমরান,বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পরিচালক ডা.আজম খান নোমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মর্ডান স্কুল নিয়ে এমপি সীমা বলেন, এমপি বাহার সাহেব দখলযজ্ঞে মেতে উঠেছেন। আমার বাবা অধ্যক্ষ আফজল খান তিলতিল করে মর্ডান স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০১৫ সালে স্কুল কমিটি ও প্রধান শিক্ষকককে সরিয়ে এবং উনার নিজের লোক দিয়ে একটি অবৈধ কমিটি করিয়ে স্কুলটি দখল করে নেন তিনি। তিনি গত ৩ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন আমার বাবা ও মা স্কুলের ৩০/৪০ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক।
যুবলীগ কর্মী জিল্লুর হত্যার প্রসঙ্গে এমপি সীমা বলেন, জিল্লুর হত্যা মামলার আসামিরা বীরদর্পে কুমিল্লা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। আমাদের সংসদ সদস্য (এমপি বাহার) এই হত্যাকারীদের প্রটেকশন দিচ্ছেন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি অসত্যের আশ্রয় নিয়েছেন। জিল্লুর গত সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছে। সে আমার কর্মী হওয়াতে তাকে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত দুই বছর আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ারকে খুন করা হয়েছে। তখনও এক ধরণের গোঁজামিল দিয়ে মাত্র দু’জনে আসামি করা হয়। পিবিআই ওই হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করলে সে আদালতে জবানবন্দিতে জানায় ওই খুনেরও মাস্টারমাইন্ডও জিল্লুর হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি কাউন্সিলর সাত্তার। এটা গত সেপ্টেম্বরের কথা। তখন সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হলে গত ১১ নভেম্বর জিল্লুর হত্যাকাণ্ড আমাদের দেখতে হতো না। কার ক্ষমতার জোরে তখন সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এটা কুমিল্লার মানুষ জানে।
কুমিল্লা টাউন হল নিয়ে তিনি বলেন, ১৩৫ বছরের ঐতিহ্যে লালিত স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন কুমিল্লার টাউন হল। তিনি এমপি হওয়ার ১২তম বছরে এসে আবিস্কার করলেন এটি বড়ই মলিন-জরাজীর্ণ, তাই কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য এটাকে ভেঙে নতুন করে করতে হবে। আরও দশটা কর্মকাণ্ডের মতো এখানেও তার বাণিজ্যিক মিশন ও লাভালাভের বিষয় জড়িত। শুনেছি ভবনটি পুরার্কীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে কিনা এনিয়ে গণশুনানি হবে। ঐতিহ্য নিয়ে গণশুনানি, এটা কেমন কথা?
এ সময় এমপি সীমা আরও বলেন, নিঃসন্তান ক্ষীতি বাবুর কৈশাল ধাম কেমন করে সোনালী টাওয়ার হয়ে গেল কেউ কি সাহস করে জানতে চেয়েছেন? ২০০৮ পর্যন্ত ঋণখেলাপী থাকা মানুষটি আজ দম্ভভরে নিজেকে সর্বোচ্চ করদাতা দাবি করেন। এখন মানুষের মনে প্রশ্ন কোন জাদুবলে এতো সম্পদের মালিক তিনি?
এমপি সীমা রেজিস্ট্রার অফিসে ঢুকে দলিল ঘষামাজার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন,কারা দলিল ঘষামাজা করেছে মানুষ তা জানে। যেই কর্মচারী বাদী হলেন,তাকে বদলি করা হয়েছে। তাই মানুষ ভয়ে প্রতিবাদ করে না।