শনিবার ২৩ জানুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » মৃত্যুর আগে জহির বলে গেছেন আইনজীবীর সবুজের নাম


মৃত্যুর আগে জহির বলে গেছেন আইনজীবীর সবুজের নাম


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.12.2020

 

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক আইনজীবীর ছুরিকাঘাতে কৃষি গবেষণা কার্যালয় কুমিল্লার এক কর্মচারী খুন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা না হলেও পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় কুমিল্লা শহরতলির আড়াইওরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় জহিরুল ইসলামকে(২৫) কুমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জহির তাঁর ওপর হামলাকারীদের নাম বলে গেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলাম । তাদের এলাকার রেহানউদ্দিন আহাম্মদের ছেলে আইনজীবী সাইফউদ্দিন আহাম্মদ ওরফে সবুজ (৪৪) ও তাঁর সঙ্গে থাকা আজহরুল ইসলাম জহিরকে ছুরিকাঘাত করেছেন।
জহিরুল ইসলাম কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতরা চম্পকনগর এলাকার প্রয়াত ফরিদ মিয়ার ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে চতুর্থ। তাঁর তিন বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
নিহত জহিরের বড় ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার সাতরা চম্পকনগর এলাকায় তাদের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার রেহানউদ্দিন আহাম্মদের ছেলে আইনজীবী সাইফউদ্দিন আহাম্মদ ওরফে সবুজের (৪৪) জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। জহির সোমবার রাত সোয়া ৮টায় আড়াইওরা এলাকায় মোটরসাইকেল সার্ভিসিং করাতে যান। এ সময় সাইফউদ্দিন আহাম্মদ ও আজহরুল ইসলাম তাকে ডেকে নেন। একপর্যায়ে জহিরের উরুতে তারা ছুরিকাঘাত করেন। তখন আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে ছুটে ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান, দুজন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় জহিরকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল হাশেম মনসুর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু এরশাদ হোসেন জানান, জহির রাত ৮টার দিকে অফিস থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ধোয়ার জন্য আড়াইওড়া এলাকার একটি গ্যারেজে আসেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন সবুজ নামের এক ব্যক্তি ও তার সঙ্গী আজহারুল ইসলাম মিলে জহিরুল ইসলামকে ডেকে সামনে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তারা জহিরুলের দুই পায়ে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত জহিরলকে উদ্ধার করে তিনি হাসপাতালে নেন।
স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে নিহতের স্ত্রী শেফালী আক্তার মাতম করছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি স্বামীর হত্যার বিচার চান।
অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন করেও এড. সাইফউদ্দিন আহাম্মদকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর সহকর্মী দুজন আইনজীবী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তিনি আদালতে যাননি।
এ দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়াারুল হক বিকাল সোয়া ৫টায় বলেছেন বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।