শনিবার ২৩ জানুয়ারী ২০২১


চাঁনপুরে তালাবদ্ধ করে কিশোরকে পুড়িয়ে হত্যা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.12.2020

মাদক সেবনে বাধা
পুড়ে গেছে নয়টি দোকান

মাহফুজ নান্টু ।
মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় আরাফাত হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে কুমিল্লা শহরতলী চাঁনপুর এলাকার মোঃ আবুল বারেকের ছেলে। মঙ্গলবার নগরী সংলগ্ন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়টি দোকান পুড়ে যায়।
নিহত আরাফাতের বাবা মোঃ আবদুল বারেক বলেন, আরাফাত থাই গ্লাসের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় তার ছেলে আরাফাতকে বাড়ি থেকে চারজন ছেলে ডেকে বউবাজারে নিয়ে আসে। তিনি ঘটনাস্থলে এসে শুনতে পান একটি দোকানে আরাফাতকে তালাবদ্ধ করে বাইরে থেকে আগুন দেয়। এ ঘটনায় আরাফাত আগুনে পুড়ে মারা যায়।
তিনি আরো জানান, যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে তারা সবাই মাদকসেবী। কিছুদিন আগে তাদের বাড়িরপাশে বসে গাঁজা সেবন করছিলো ওই ছেলেগুলো। আরাফাত তাদেরকে বাড়ির পাশে গাঁজা সেবন করতে বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজ তারা আরাফাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।
কারা আরাফাতকে বাড়ি থেকে ডেকে এনেছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারেক বলেন, তাদের নাম পুলিশের কাছে বলবো।
মনির হোসেন নামের একজন দোকানী জানান, দুপুর দেড়টায় হঠাৎ করে দোকানের পেছন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নয়টি দোকান ঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়।
এদিকে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এক ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী আজম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে আরাফাতের লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া আফরিন ও পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুল। তারা বলেন, ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত। তবে পুলিশী তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে।
নিহত আরাফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে আচ্ছন্ন পুরো এলাকা।
স্বজনরা জানান, আবদুল বারেকের চার ছেলে। তার মধ্যে আরাফাত হোসেন সবার ছোট। তার মা মারা গেছেন ১২ বছর আগে। তখন থেকে আরাফাত তার ফুফু নাজমা বেগমের কাছে বড় হন।
ভাইয়ের ছেলেকে সন্তানের মত লালন পালন করেছিলেন নাজমা বেগম। এখন সেই ভাইপোকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। নাজমা বেগম দাবি করেন তার ভাইয়ের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা আরাফাতের লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। আমরা ঘটনার আদ্যপান্ত্য খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে ঘটনাটি পরিকল্পিত মনে হয়েছে। আমরা আরাফাতের বাবাকে থানায় এনেছি। স্থানীয়দের স্বাক্ষ্য প্রমাণ নিচ্ছি। আশা করি তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া আফরিন নিহত আরাফাত হোসের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন থেকে ভাড়াটিয়াদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও দোকান মালিকদের ১২ হাজার টাকা ও ৩ বান্ডেল টিন দেয়া হবে বলে জানান।