শুক্রবার ২২ জানুয়ারী ২০২১


তনুর বাবার অফিসে পিবিআই, পরিবারের হতাশা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.12.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
বৃহস্পতিবার তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনের সাথে দেখা করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার একটি টিম। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করে ঢাকায় ফিরে যান। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর গত ১৫ নভেম্বর তনুর বাবা ক্যান্টনবোর্ড বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনকে নিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার স্থল, তনুদের পুরোনো বাসভবন, সার্জেন্ট জাহিদের বাড়ি পরিদর্শন করে পিবিআইয়ের একটি টিম। এবার শুধুমাত্র তনুর বাবার অফিস কক্ষ পরিদর্শন করে ঢাকায় ফিরে মামলার তদন্তকারী দল।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ৫৭ মাস পূর্ণ হচ্ছে ২০ ডিসেম্বর। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছরে চারবার মামলার তদন্ত সংস্থা ও পাঁচবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়। প্রথম চারবার কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা মামলার তদন্ত করলেও সর্বশেষ পিবিআইয়ের ঢাকার একটি টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মজিবুর রহমান। এর আগে মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সিআইডি কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ।
পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, আমরা খুব গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্ত করছি। তবে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
এদিকে তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ এ সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তনুর মা-বাবাসহ পুরো পরিবার। বিচার পাওয়ার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
আনোয়ারা বেগম বলেন,‘বারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল ছাড়া আর কোনও আশার কথা শুনিনি। অসুস্থ হওয়াতে ক্যান্টনমেন্ট যেতে পারিনি। ভেবেছি তারা (পুলিশ) গ্রামে এসে আমাদের সাথে কথা বলবে, কিন্তু তারা আসার সময় পায়নি। আর কতদিন মেয়ের খুনের বিচারের জন্য কাঁদবো!
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত ও তনুর জামায় পাওয়া সিমেন নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে ধারণা করে সিআইডি। হত্যাকাণ্ডের পরদিন অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভিক্টোরিয়া কলেজসহ পুরো বাংলাদেশ। প্রায় ৫৭মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচবার বদল হয়। দীর্ঘ এ সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন আর কলেজের কয়েকজন নাট্যকর্মী ও তনুর বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি পুলিশ।