শুক্রবার ২২ জানুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » মেঘনায় লঞ্চে ডাকাতি: সীমানা জটিলতায় দুদিনেও মামলা হয়নি


মেঘনায় লঞ্চে ডাকাতি: সীমানা জটিলতায় দুদিনেও মামলা হয়নি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.12.2020

চাঁদপুর প্রতিনিধি।।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার কাছাকাছি মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে ডাকাতির ঘটনার দুদিনেও মামলা হয়নি। সীমানা নিয়ে জটিলতা এবং লঞ্চটির মালিক ও যাত্রীদের অনাগ্রহের কারণে মামলা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, ডাকাতি ঘটেছে গজারিয়া থানা এলাকায়। মামলা হলে ওই থানায়ই হবে। কিন্তু কী কারণে তা হচ্ছে না, তিনি বলতে পারবেন না।অন্যদিকে গজারিয়া থানার ওসি মো. রইস উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, কেউ বলছেন ডাকাতিটি মতলব উত্তর থানা এলাকায় ঘটেছে। কেউ বলছেন গজারিয়া থানা এলাকায়। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য নৌ পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মামলার জন্য লঞ্চটির মালিক বা কোনো যাত্রীও যোগাযোগ করেননি। কেউ অভিযোগ না করলে মামলা হবে কীভাবে? এসব কারণে মামলায় দেরি হচ্ছে। ডাকাতেরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা, ৫০-৫৫টি মুঠোফোন, কয়েকটি হাতঘড়ি ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।পুলিশ ও লঞ্চটির কয়েকজন যাত্রী জানান, গত বুধবার বিকেল পৌনে ছয়টায় নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল থেকে মতলব উত্তরের ষাটনলের উদ্দেশে এমভি হৃদয় নামের লঞ্চটি রওনা দেয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে সেটি গজারিয়া ঘাটে ভেড়ে। সেখানে কিছু যাত্রী ওঠানামার পর লঞ্চটি আবার রওনা দেয়। এ সময় লঞ্চটিতে ৫০-৬০ জন যাত্রী ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মতলব উত্তর ও গজারিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে ১৯-২০ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল স্পিডবোটে করে গিয়ে লঞ্চটিতে ওঠে।ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে লঞ্চটি থামিয়ে দেয়। এ সময় কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ডাকাতেরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা, ৫০-৫৫টি মুঠোফোন, কয়েকটি হাতঘড়ি ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য লঞ্চটির মালিক বা চালকের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে লঞ্চটির কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঘটনার পর থেকে লঞ্চটির যাত্রীরা স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। টাকা, মুঠোফোন, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল হারিয়ে তাঁরা সর্বস্বান্ত। মামলা করে নতুন বিপদ আনতে চান না কেউ। মামলার দায়িত্ব লঞ্চমালিকের।