রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Space Advertisement
Space For advertisement


স্বামী মুক্তিযোদ্ধা, তবু ঘর নেই ৮০ বছরের বৃদ্ধার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.12.2020

ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া।।
আমার স্বামী একজন বীর মক্তিযোদ্ধা। তিনি মারা যাবার পর থেকে আমার পরিবারের সবকিছু পাল্টাতে থাকে । ছেলের চাকরি ছিল ,তাও আজ নেই। মাথাগোঁজার যে ঘরটা ছিল, তা অন্যের কাছে বিক্রি করা । প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে আরেক মেয়ের স্বামীর বাড়িতে থাকতে হয়। বাকি জীবনটা কাটানোর জন্য একটা ঘর হলেই চলবে আমার। অশ্রু ভেজা নয়নে এ কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ দঃ পাড়া গ্রামের হায়দার আলী সরকার বাড়ির মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তাহেরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৮০) ।
তিনি বলেন, আমার স্বামী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মারা যান। তার মৃত্যু আমাদের পরিবারের সকল শান্তি কেড়ে নিয়েছে। তার কিছু দিন পর স্ত্রীর মামলায় ছেলের চাকরি চলে যায়। আমার তৃতীয় মেয়ে প্রতিবন্ধী পলি আকতারকে (৩০) নিয়ে মেয়ের বাড়িতে থাকি। আজ কিছু দিন হয় স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসি। এসে দেখি বাড়িতে যে ঘর ছিল, তা আবার নাকি অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল আমার স্বামী। আমার বয়স এখন প্রায় ৮০। এ শেষ বয়সে প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে আমি কি করব, কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। এখন আমার স্বামীর নিজ বাড়িতে ৩ শতক জায়গা রয়েছে। এখানে কোনোভাবে জীবন চলছে। স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতার একটা বড় অংশ ব্যাংক লোন বাবদ কেটে নিয়ে যায়। প্রতি তিন মাস পরপর ১৩ হাজার টাকা পাই আমি। আমার ৩ ছেলে, ৩ মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়ে ওই টাকা দিয়ে কোনরকম বেঁচে আছি। আমার আকুল আবেদন, সরকার আমাকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিচ্ছে, মেয়েকে দিচ্ছে প্রতিবন্ধী ভাতা, তারপর আমার আর কোন চাওয়া থাকার কথা নয়। কিন্তু আমি অসহায়। আমার অনুরোধ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যে বাড়ি দিয়েছে,আমাকে যেন একটি বাড়ি দেয়। জীবনের শেষ সময়টুকু যেন প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে পাড়ি । আমার মৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর আত্মা এবং আমার অসহায় পরিবার সব সময় সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।