রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Space Advertisement
Space For advertisement


কুমিল্লা-চাঁদপুরে পাকবাহিনী যেভাবে পরাজিত হয়েছিল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.12.2020

মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন

বৃটিশরা প্রায় দুইশত বছর ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করে ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশ বিভক্তির মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দিরে যায়। পাক ভারতের হিন্দু-মুসলিম প্রথমে একসাথে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন করলেও যখন মুসলিম সম্প্রদায় বুঝতে পারলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে মিলে মিশে একসাথে রাজনীতি করা যাবে না, মুসলমানদের একটি স্বাধীন দেশ এবং দলের দরকার তখন মুসলমান সম্প্রদায় ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ নামে একটি দল গঠন করে আলাদা রাজনীতি করতে থাকে। তার পরে ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায় তাদের আলাদা রাষ্ট্রগঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানায়। এর আগে ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল এবং ১৯৩৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রগঠন করার জন্য পত্রিকায় মতামত পেশ করেন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে মুসলমানদের জন্য একটি মাত্র রাষ্ট্র পাকিস্তান হবে এর কোন উল্লেখ নেই। লাহোর প্রস্তাবে বলা হয় ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলি নিয়ে একাধিক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন মুসলিমলীগ নেতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল দিল্লীর মুসলিমলীগ কনভেনশনে একতরফাভাবে লাহোর প্রস্তাব পরিবর্তন করে একটি মাত্র রাষ্ট্র হবে বলে ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণায় তৎকালীন বাঙালী নেতাগণ খুবই মর্মাহত হয়েছিলেন। বাঙালী নেতাগণ অনুধাবন করেছিলেন ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ উপমহাদেশে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র হবে। লাহোর প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান রাষ্ট্র হবে বলে তার নাম গন্ধও ছিলনা। তাহলে আমরা বলতে পারি ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে নয় ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল দিল্লী প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র হয়েছিল। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এভাবে শুরু থেকে গণতান্ত্রিক মনোভাব ক্ষুন্ন করে এক তরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যা পকিাস্তান রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের গোড়া থেকেই যেহেতু পাকশাসক গোষ্ঠীর মাঝে গণতান্ত্রিক মনোভাব তেমন জাগ্রত ছিলনা। পাকিস্তানের চব্বিশ বছরের শাসন জীবনে তা আমরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ভালো ভাবে উপলব্ধি করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পাক শাসন গোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি ইত্যাদি বহুবিদ কারণে পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাঙ্গন নিশ্চিত হয়ে পড়েছিল । ফলে, বঙ্গবন্ধু বাধ্য হয়ে বাঙালী জাতির জন্য আলাদা রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করে থাকেন। এর ফলশ্রুতিতে শুর হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অনেক দিন আগে থেকেই। যাহা পাক শাসকগোষ্ঠী কোন দিন টেরও পায়নাই। তারা ভেবেছিল বাঙালী জাতিকে প্রথম থেকে কোনঠাসা করে শাসন, শোষন ও নির্যাতন করে দাবিয়ে রাখতে হবে কিন্তু তাদের এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পূর্ব দক্ষিন রনাঙ্গনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ছিল কুমিল্লা-চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ-লাকসাম এবং মুজাফ্ফর গঞ্জ সড়ক। স্থল পথে ঢাকাকে হামলা থেকে বাঁচানো জন্য চাঁদপুরের কাছে হানাদার বাহিনীর ৩৯ ডিভিশন হেডকোয়ার্টার স্থাপন করেছিল। এর কমান্ডার ছিলেন ইয়াহিয়া খানের সবচেয়ে সুদক্ষ এবং দুধর্ষ মেজর জেনারেল আব্দুর রহিম। জেনারেল রহিম সুবিধার জন্য কুমিল্লায় ১১৭ ব্রিগেড এবং লাকসামে ৫৩ ব্রিগেড স্থাপন করেছিলেন, যাতে ঢাকাগামী মুক্তি বাহিনীকে নিমিশে নিশ্চিহ্ন করা যায়। এর আগে লালমাই পাহাড়ের যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর ২৫ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স নিশ্চিত হয়ে যায় এবং ২৩ পাঞ্জাব বিদ্ধস্থ অবস্থায় ডাকাতিয়া নদী থেকে পলায়ন করার ফলে জেনারেল রহিম হতভম্ভ হয়ে উঠে। ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১ পাক-ভারত আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হলে মিত্রবাহিনী, মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। এই প্রেক্ষাপটে চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ-মুজাফ্ফরগঞ্জ-কুমিল্লা সড়কের মুক্তি ও মিত্র বাহিনী একজোগে আক্রমন করে পাকবাহিনীকে দিশেহারা করে তোলে। কুমিল্লা-চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ সড়কের আশে পাশে এবং বিভিন্ন জংগলে সর্বত্র মুক্তিবাহিনী পজিশন নিয়ে ঢাকার দিকে অগ্রবর্তী হতে থাকে। এর মাধ্যে কুমিল্লা-চাঁদপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাড়া খেয়ে পাক বাহিনী ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট কুমিল্লায় অবস্থান করতে থাকে। পরে, জেনারেল রহিম তার অবশিষ্ট সৈন্য বাহিনী নিয়ে ঢাকার দিকে ফিরার চিন্তা করতে থাকে। ৪ ডিসেম্বর চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে অবস্থানরত পাকবাহিনীর অধিনায়ক বিগ্রেডিয়ার আসলাম নিয়াজী বুঝতে পারলেন অবস্থা খুবই বেগতিক, আশে পাশের স্থানীয় লোকজন কেউ তাদের সহযোগীতা করছে না। রাজাকার আল বদররা পালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ফিরা বা চাঁদপুরে জেনারেল রহিমের সাথে মিলিত হওয়ার কোন সম্ভবনা নাই। অবশেষে ব্রিগেডিয়ার আসলাম নিয়াজি তার অধিনস্থ সমস্থ বাহিনীকে লাকসামে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন । তার নির্দেশ মতে ১৫ বালুচ, ৩৯ বালুচ, বিধস্ত অবস্থায় ২৩ পাঞ্জাব, ২১ আজাদ কাশ্মীর লাকসামে এসে হাজির হলো। এরই মধ্যে খবর এলো ৩৯ ডিভিশনের অধিনায়ক জেনারেল রহিম খাঁন চাঁদপুর থেকে লাকসামে আসবেন। পরের দিন আসার সময় রাস্তায় তিনি মুক্তিবাহিনী কর্তৃক বাঁধাপ্রাপ্ত হন, তারপাইলট জীপ বিধ্বস্ত হলে তিনি চাঁদপুরে ফিরে আসেন। তখন মুক্তিবাহিনী সর্বত্র ওৎ পেতে রয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে বিগ্রেডিয়ার আসলাম নিয়াজী বিচ্ছিন্ন অবস্থায় লাকসামে না থেকে চাঁদপুরে জেনারেল রহিমের সাথে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করেন। সিদ্ধান্ত অনুশারে লে: কর্ণেল আশফাক। লে: কর্ণেল জায়েদীর নেতৃত্বে সকল ইউনিটকে দুইটি গ্রুপে ভাগ করে মুজাফ্ফরগঞ্জে অবস্থিত মুক্তি ও মিত্র বাহিনীকে চাঁদপুরে যাওয়ার রাস্তাকে মুক্ত করা। তাদের এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো। লে: কর্ণেল আশফাক ও লে: কর্ণেল জায়েদী এবার মূল রাস্তা বাদ দিয়ে গ্রামের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যাওয়ার সময় পথে তাদের ভিষম কষ্ট এবং বাঁধার সম্মুখীন হয়েছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দীর্ঘ ৩৬ ঘন্টা পরিশ্রম করা হলো। প্রচন্ড ক্ষুধা, পানির পিপাসায় এবং বিম্রামের অভাবে তারা শক্তিহীন হয় পড়লো। তাদের মনে খুবই ভয় ছিল মুক্তিবাহিনীর কবলে পড়লে জীবনে আর বাঁচবে না ৯ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জের কাছে মিত্র বাহিনীর তাবুর সন্ধান পেয়ে সাদা পতাকা উড়িয়ে ১৫ বালুচ, ২৩ পাজ্ঞাব, ২১ আজাদ কাশ্মীর আত্মসমর্পন করলো। কিন্তু রাস্তা-ঘাটে যে আহত সৈন্য পড়েছিল তাদের খবর আর পাওয়া যায় নাই। উক্ত ইউনীট সমূহের আত্মসমর্পনে ফলে বিগ্রেডিয়ার নিয়াজী চাঁদপুরের পরিবর্তে কুমিল্ল ক্যান্টনমেন্টে পশ্চাদপসরণ করতে লাগলো। উপায়ান্ত না দেখে বিগ্রেডিয়ার আসলাম নিয়াজী কমান্ডার ৫৩ ব্রিগ্রেড ১০ই ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভারী মরণাস্ত্র, সমন্ত রেশন, সামগ্রী গোলাগুলি নদীতে নিক্ষেপ করে ময়নামতি সেনানিবাসের দিকে রওয়ানা হলো। এবার জেনারেল আব্দুর রহিম ৮ই ডিসেম্বর রাতে ইষ্টাণৃ হেডকোয়ার্টারে বিপদ সংকেত পাঠালেন। আমরা তিন দিক থেকে শত্রুবেষ্টিত। আমাদেরকে সাফল্যজনকভাবে পশ্চাদপসরনের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সাহায্য পাঠান। জেনারেল নিয়াজী খবর পেয়ে পশ্চাদ পসরনের জন্য জেনারেল আব্দুর রহিমকে নির্দেশ দিলেন। নির্দেশনা পেয়ে জেনারেল রহিম চাঁদপুর থেকে ঢাকায় পশ্চাদপরনের আয়োজন শুরু করে দিলেন । ঢাকা থেকে কোন সাহয্যর আশা না করে স্থানীয়ভাবে কয়েকটি লঞ্জ সংগ্রহ করে জিনিসপত্র রসদ এবং জোয়ানদেরকে নিয়ে ৩৯ ডিভিশনের কনভয় রওয়ানা হলো ১০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে চারটায়। দিনের বেলায় মুক্তিবাহিনীর ভয়ে জেনারেল রহিম রওয়ানা দেননাই। তিনি রওয়ানা হওয়ার আগে ইস্টার্ণ কমান্ড হেডকোয়ার্টারে এয়ার কভারের অনুরোধ জানিয়ে জরুরী বার্তা পাঠিয়ে ব্যর্থ হন। ১০ ডিসেম্বর সকালে যখন জেনারেল রহিম খানের গ্রানবোর্ট ও নৌকাগুলি শীতলক্ষ্যা নদী বরাবর অগ্রসর হচ্ছিল তখন মিত্র বাহিনীর দুটোমিগ-২১ যুদ্ধ বিমান হামলা করার ফলে ৩৯ ডিভিশনের পলায়নরত সকল সৈন্য রসদ ও সমরাস্ত্র নদীতে ২০ মিনিটের মধ্যে ধংবস হয়ে গেলো। ইহা ছিল ১০ ডিসেম্ভর ১৯৭১ সাল। আক্রমনে জেনারেল রহিমসহ আরো কয়েকজন রক্ষা পেয়েছিল। তবে জেনারেল রহিম মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছিলেন। নারায়নগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী দল আহত রহিম সহ জীবিত সৈন্যদেরকে উদ্ধার করেছিল আর পিছনে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে রইল বহুসংখ্যক ভাসমান সৈন্য ও অফিসারদের লাশ। এই শীতলক্ষ্যা নদীতে ধ্বংশ হয়ে গেল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দুধর্ষ দুই নং ক্র্যাক কমান্ডো ব্যাটালিয়ন। এর চারজন অফিসারই নিহত হলো। এই নিহত অফিসারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মেজর বেলাল, যিনি ২৬শে মার্চ ১৯৭১ বন্ধবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ছিলেন (পৃষ্ঠা-২৬১ আমি বিজয় দেখেছি)। ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় দিয়ে যে সব জীবিত সৈন্য প্রাণ ভয়ে গ্রামের দিকে দৌড়ে ছিল তাদের খবর আর কোনদিনও পাওয়া যায়নাই। এসব গ্রামে তখন মুক্তিবাহিনীর খুব সক্রিয় অবস্থানে ছিল এবং ওৎপেতে বসে ছিল। কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট পাকিস্তানের বিখ্যাত হকি খেলোয়াড় বিগ্রেডিয়ার আতিফের নেতৃত্বে অত্র ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত ১১৭ বিগ্রেড তাদের সুদৃঢ় অবস্থান থেকে সড়তে রাজি নয় কিংবা কোন যুদ্ধে লিপ্ত হতে সাহসী নয়। লাকসামে বিগ্রেডিয়ার আসলাম নিয়াজির অধীনে ৫৩ বিগ্রেড রনক্লান্ত ভীতসন্ত্রস্ত ছিল। আর চাঁদপুরে ৩৯ বিগ্রেড হেড কোয়াটারের সৈন্যরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার জন্য অস্থির ছিল। আবার ১১৭ ফিল্ডের বিগ্রেডিয়ার আতিফ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে তার সৈন্য বাহিনীকে বের হওয়ার নির্দেশ দেন নাই। তিনি ক্যান্টনমেন্ট এর ভিতরেই শক্তিশালী ডিফেন্স তৈরী করে বসে আছেন। মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর সৈন্যরা ৮ই ডিসেম্বর কুমিল্লা শহর হানাদারমুক্ত করে পতাকা উড়িয়ে দাউদকান্দি হয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলো এবং ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট তখন আক্রমন না করে সুযোগের সন্ধানে রইলো। ১৯৭১ সালে ১৬ইডিসেম্বর ঢাকার মিত্র বাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর ১৭ই ডিসেম্ভর থেকে কুমিল্লা গ্যারিসনে মিত্র বাহিনীর নিকট অস্ত্রসমর্পন করেছিল। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১ আহত জেনারেল রহিম খানকে হেলিকপ্টার করে কয়েকজন অফিসারসহ বর্মার আকিয়াবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

পরিশোষ একথা বলা যায় যে, যে আকাংখা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল, পাকিস্তানি শাসক গোষ্টিরা জনগনের সে আশা ও উদ্দীপনা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছিল। পাকিস্তানীদের চব্বিশ বছর শাসন আমলে দেখা যায় তারা সবকিছুতেই গাদ্দারি করেছিল এবং বাঙালি জাতি এবং সমাজকে খুব ছোট করে দেখেছিল। অথচ বাঙ্গালি জাতি পৃথিবীর প্রাচীনতম জাতি যার সাহিত্য সংস্কৃতি বিশ্বখ্যাত। আমরা আরো দেখতে পাই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ যে ভাবে গাদ্দারি করে লাহোর প্রস্তাব পরিবর্তন করে একটি মাত্র রাষ্ট্র পাকিস্তান হবে বলে ঘোষনা দিয়েছিল, সেইরুপ গাদ্দারি করে ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট নামে বাঙালি নিধনে মেতেছিল। আমার ভাবতে অবাক লাগে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের দূরত্ব ছিল ১২০০ মাইল। এতদূরে অবস্থান করে দুটি দেশ কিভাবে এক থাকে? যে দেশের শাসকগোষ্ঠী গনতন্ত্রের প্রতি বিন্দু মাত্র শ্রদ্ধাবোধ ছিলনা। তাই মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পাকিস্তান রাষ্ট্রের এইভাগ দেখে মন্তব্য করেছিল “এই পাকিস্তান রাষ্ট্র পঁচিশ বছরের বেশি টিকবেনা”। সত্যি তার কথা বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। পঁচিশ বছর পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙ্গে গিয়েছিল।

উৎস/গ্রন্থপঞ্জি:-
১) আমি বিজয় দেখেছি-এম,আর,আক্তার মুকুল
২) নিয়াজির আত্মসমপনের দলিল- সিদ্দিক সালিক
৩) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের ইতিহাস-মুনতাসির মামুন- মাহবুব আলম

লেখক
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন
শিক্ষক ও কলামিষ্ট
কোটবাড়ী, কুমিল্লা।
মোবা: ০১৮১৫০৫০৫৯৩