শুক্রবার ২২ জানুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ফলদ বাংলাদেশের বৃক্ষপদযাত্রা কুমিল্লায় ‘ফলের গাছে মানুষ বাঁচে, বাঁচে পাখি পরিবেশ’


ফলদ বাংলাদেশের বৃক্ষপদযাত্রা কুমিল্লায় ‘ফলের গাছে মানুষ বাঁচে, বাঁচে পাখি পরিবেশ’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.12.2020

আবদুর রহমান ।।
‘ফলের গাছে মানুষ বাঁচে, বাঁচে পাখি পরিবেশ’ এই স্লোগানে মানুষের মধ্যে ফলদ বৃক্ষের সচেতনতা তৈরি করতে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ফলদ বাংলাদেশ’। সংগঠনটির সদস্যরা ফলের গাছের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং পরিবেশ ও বাসস্থানের জন্য ক্ষতিকারক বৃক্ষের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছে ২০১৩ সাল থেকে।
এরই মধ্যে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা শুরু করেছে ৪০০ কিলোমিটার বৃক্ষপদযাত্রা। ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত চলবে তাঁদের এই পদযাত্রা। বুধবার দুুপুরে ফলদ বাংলাদেশের ওই বৃক্ষপদযাত্রা কুমিল্লা নগরীতে পৌঁছায়। এর আগে মঙ্গলবার দিনভর তারা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ফলদ বৃক্ষের সচেতনতা নিয়ে প্রচারণা চালায়। কুমিল্লা নগরী কান্দিরপাড় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানেও বুধবার বিকেল ও সন্ধ্যায় প্রচারণা চালায় সংগঠনের সদস্যরা।
‘ফলদ বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্রাবিড় সৈকত বলেন, ‘পুষ্টি অর্থ সবুজ পথ, ফলের গাছেই ভবিষ্যৎ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফলদ বাংলাদেশের আয়োজনে বৃক্ষপদযাত্রা চলছে। পদযাত্রাকালে আমরা মানুষের মাঝে ফলের গাছের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর বৃক্ষের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ফলদ বৃক্ষ রোপন করছি।
দ্রাবিড় সৈকতের সঙ্গে এই পদযাত্রায় রয়েছেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মাহমুদুল আহসান লিমন, শিক্ষার্থী রাতুল মুন্সী, হুমায়ুন করির টুটুল, নিউটন চাকমা, শাহীন আলম, সুজালো চাকমা ও রঞ্জিত কুমার। ক্যাম্পেইনকালে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় যুক্ত হন সংগঠনের স্থানীয় সদস্যরা।
পদযাত্রীদের মধ্যে হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশি ক্ষতিকর বৃক্ষের বিপরীতে আমাদের বাস্তুসংস্থানের উপযোগী বৃক্ষকে গুরুত্ব দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা সকলের মাঝে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরছি।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে ১২ জুন থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে সংগঠনটি। ওই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত ইতিমধ্যে সংগঠনের সদস্যরা দেশের ৪৬টি জেলার একাধিক উপজেলা এবং গ্রামে গ্রামে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ফলের বৃক্ষ রোপন করেছে। রোপন পদ্ধতির বিশেষত্বের করণে রোপিত বৃক্ষের ৯৫ভাগ টিকে আছে এবং ফল দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সারাদেশে অন্তত পাঁচ কোটি ফলের গাছ রোপন করার লক্ষ্য রয়েছে সংগঠনটির।
উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই পদযাত্রা। শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর খাগড়াছড়িতে গিয়ে। পথে তারা ৭টি জেলাসহ ২৪টি উপজেলাসহ দেড় শতাধিক বাজারে ক্যাম্পেইন করবেন। এই ১৬ দিনে দলটি সারাদিন পদযাত্রা করে ময়মনসিংহের গফরগাঁও, কিশোরগঞ্জ, কটিয়াদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবা, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল¬া সদর, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট, রামগড়, জালিয়াপাড়া, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা হয়ে খাগড়াছড়ি শহর পর্যন্ত ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে।