শনিবার ২৩ জানুয়ারী ২০২১


কুমিল্লায় অপরিকল্পিত ইটের ভাটা ও মাছের ঘেরে কমছে ফসলি জমি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.12.2020

ইটভাটা কমেছে মুরাদনগরে, দেবিদ্বারে -মাছের ঘের দাউদকান্দি, চান্দিনায়

মাহফুজ নান্টু ।
বাড়ছে মানুষ। বর্ধিত মানুষের বসবাসের জন্য তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়িসহ স্থাপনা। আর এ কারণে গত দশ বছরে অন্তত তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি কমেছে কুমিল্লা জেলায়।
যে সব কারণে ফসলি জমি কমেছে তার মধ্যে অন্যতম বাড়িঘর ও ইটভাটা নির্মাণ। এছাড়াও রয়েছে রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাছের ঘের ও ডেইরি ফার্ম অন্যতম।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় দুই লাখ ১৬ হাজার ৬১৬ হেক্টর ফসলি রয়েছে। ১০ বছরে কুমিল্লার ১৫শ’ হেক্টর জমি কমেছে। তবে পরিবেশবিদদের ভিন্নমত। তারা বলছেন, জমির পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গেছে গত দশ বছরে ইট ভাটার কারণে জেলার মুরাদনগর, হোমনা, দেবিদ্বারে সবচেয়ে বেশী ফসলি জমি কমেছে। এছাড়াও জেলার দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও মেঘনায় অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে ফসলি জমি কমেছে। বাড়িঘর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে সদর, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম, বরুড়া, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে ফসলি জমি কমেছে।
এভাবে অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা, ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে আশংকাজনকহারে কমছে ফসলি জমি। ফসলী জমির পাশে ইটভাটার কারণে ফসল কমে যাচ্ছে। ইটভাটার কারণে কমছে ফল উৎপাদন। নষ্ট হচ্ছে পরিবশে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম উদে¦গ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফসলি জমি কমার জন্য দায়ী অপরিকল্পিত ইট ভাটা, স্থাপনা ও মাছের ঘের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এসবের বিরুদ্ধে এখনই লাগাম টেনে না ধরে তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ফসলি জমি আরো কমবে। সেই সাথে জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক সুরজিৎ চন্দ্র দত্ত জানান, কিছু ফসলি জমিতে মাছের ঘের, ফলের বাগান তৈরি করা হচ্ছে। এগুলোতে কৃষি সম্পর্কিত আয়ের উৎস তৈরি হয়। তবে ইট ভাটা, অপরিকল্পিত মাছের ঘেরসহ অন্যান্য স্থাপনার জন্য ফসলি জমি কমে যায়।