বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২১


কাপ্তান বাজারে ধূমপানমুক্ত যৌথ পরিবার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.01.2021

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজার জাহাননগর এলাকা। বাড়ির নাম ‘রহমান ভিলা’। এই বাড়িতে ৬০জনের উপর সদস্যের বসবাস। ৩০বছর ধরে বাড়ির সদস্যদের কেউ ধূমপান করেন না। সাথে তারা মাদককেও না বলেছেন। তারা যৌথ পরিবারে বসবাস করেন। পরিবারের সবাই বিভিন্ন উৎসবে একই রঙের পোষাক পরেন। ইভটিজিংসহ সামাজিক অনাচার গুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের দূরে রাখতে চেষ্টা করছেন। এই বাড়ির মালিক প্রয়াত খলিলুর রহমান। তার ছেলে ছয় ছেলে। ছয় মেয়ে। ছেলেরা হাবিবুর রহমান,রফিজুর রহমান,জামিলুর রহমান,আবদুর রহমান,আনিসুর রহমান ও আফতাবুর রহমান এক বাড়িতে থাকছেন। মেয়েদেও বিয়ে হয়ে গেছে। সবাই চাকুরি ও ব্যবসায় জড়িত। তাদের নাতি পুতি হয়ে গেলেও সবাই যৌথ পরিবারে বসবাস করেন।
সবার বড় হাবিবুর রহমান। তিনি সিটি মেয়রের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। তিনি প্রথম বাড়িকে ধূমপানমুক্ত করার এই উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন,‘তার এক চাচা ধূমপান করতেন। তিনি তাকে বলেন,ধূমপান থেকে মানুষ এক সময় মাদক সেবনে চলে যায়। আপনাকে দেখে ছেলে-মেয়েরা সে পথে যেতে পারে। আপনি ধূমপান ছেড়ে দিলে ভালো হয়। চাচা কয়েকদিন পর জানালেন। তিনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর তিনি বাড়িতে লাগিয়ে দেন ধূমপানমুক্ত বাড়ির ফলক।’
আরেক ভাই ডিসির(জেলা প্রশাসক) সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জামিলুর রহমান বলেন,‘তাদের পিতাও ডিসি অফিসে চাকুরি করেছেন। তিনি শিখিয়েছেন হারামে আরাম নেই। পরিবারের সবাই একসাথে থাকাতে অনেক আনন্দ। তারা দোকানে কখনও আড্ডা দেননি। নিজেদের আঙিনায় ভাইয়েরা মিলে খেলেছেন। তাদের ছেলে ও ভাতিজারা পারবারিক সেই বন্ধন ধরে রেখেছেন। পারিবারিক কোন অনুষ্ঠান তারা আনন্দের সাথে উদযাপন করেন। একের বিপদে অন্যে এগিয়ে আসেন। ধূমপানসহ খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলেন নতুন প্রজন্মকে। তাদের বাড়িতে কোন মেহমান এলে ধূমপান করেন না। এমনকি এই বাড়িতে পান এবং তামাকপাতাও খাওয়া হয় না।’
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘ধূমপানমুক্ত বাড়ি’একটি অনুপ্রেরণামূলক বিষয়। এটা দেখে অন্যরা ধূমপান ত্যাগে অনুপ্রেরণা পাবে। ধূমপান প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরো কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে।’
শিক্ষাবিদ এহতেশাম হায়দার চৌধুরী বলেন,‘যৌথ পরিবার ব্যবস্থা প্রায় হারিয়ে গেছে। রহমান পরিবারের পারিবারিক বন্ধন ও নতুন প্রজন্মকে ধূমপান,মদপান থেকে দূরে রাখার চেষ্টা প্রশংসনীয়।’