শুক্রবার ৫ gvP© ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » বয়স হইছে, চামড়া বইট্টা গেছে, আঙ্গুলের ছাপ না কি মিলে না


বয়স হইছে, চামড়া বইট্টা গেছে, আঙ্গুলের ছাপ না কি মিলে না


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.01.2021

আঙ্গুলের ছাপ জটিলতায় ভোট দিতে পারেননি অনেকে

 

চান্দিনা প্রতিনিধি

ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ডিভাইসে কুমিল্লার চান্দিনা পৌর নির্বাচনে জটিলতায় ভোট দিতে পারেনি ভোটার। কেন্দ্রে প্রকৃত ভোটার হয়েও ভোট দিতে না পেরে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ভোটাররা।

শনিবার চান্দিনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই এমন সমস্যায় পড়ে ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন অন্তত অর্ধ শতাধিক ভোটার।

পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ভোটার অনীল নাহা। তিনি জানান- সকাল ১১টায় আমি ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসি, কয়েকবার চেষ্টার করেও আমার আঙ্গুলের ছাপ না মিলায় আমাকে এনআইডি কার্ড নিয়ে আসার জন্য বলেন। আমি বাড়ি থেকে এনআইডি কার্ড নিয়ে আসার পর আমার এনআইডি কার্ডের নম্বর চাপার পর কম্পিউটার স্কিনে আমার ছবিসহ ভোটার তালিকা আসে। তারপর আবার আমার আঙ্গুলের ছাপ নেয়। আঙ্গুলের ছাপ না মিলায় আমাকে ভোট কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন- হাতের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে ভোটার হয়েছিলাম। এখন আঙ্গুলের ছাপ মিলে না! আঙ্গুলের ছাপ না মিলায় আমি কি এদেশের নাগরিক হইনি? যে ভোট দিতে পারবো না। আমরা সারাদিন কাজ করি ইভিএম মেশিন আমাদের আঙ্গুলের ছাপ মিলাতে পারছে না সেটা মেশিনের ত্রুটি, সেই কারণে আমি ভোট দিতে পারবো না এটা কেমন কথা?

একই ওয়ার্ডের আশিউর্ধ্ব বয়সী আব্দুু মিয়া হতাশা গ্রস্থ হয়ে বলেন- মেশিনের ভোট দেমু ভাইবা আইছি, আমার ভোট দিতে পারলাম না। বয়স হইছে, চামড়া বইট্টা গেছে, আঙ্গুলের ছাপ না কি মিলে না। ক্ষণে সাবান দিয়ে ক্ষণে লেবু দিয়া ঘইস্যাও আঙ্গুলের ছাপ উঠাতে পারলাম না। আর জীবনে ভোট দিতাম পাইরাম কিনা জানি না।

একই কেন্দ্রের ভোটার হাজী কাশেম, ছালাউদ্দিন, বিল্লাল হোসেন, ১নং ওয়ার্ডে পূর্ব বেলাশহর কেন্দ্রে ৯৫ বয়সী বন্দে আলী মিয়া, ৩নং ওয়ার্ডের আব্দুল আলিম, আমেনা বেগমসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ভোটার ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরেন।

চান্দিনার ৮নং ওয়ার্ড বিশ্বাস কেন্দ্রের একটি কক্ষে ইভিএম মেশিন স্লো হয়ে ভোট গ্রহণে বিলম্ব। সকাল সাড়ে ১১টায় একটি ভোট কক্ষে ওই ঘটনা ঘটলে ভোট দিতে বিড়ম্বনায় পড়েন ভোটাররা। প্রায় ৩০ মিনিট একই অবস্থায় থাকার পর মেশিনটি বদল করেন সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, ৩নং ওয়ার্ডের একটি কক্ষে ভোট চালু হতে সময় লাগে।

এ ব্যাপারে সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আহসান হাবিব জানান- বিষয়টি নিয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো।