শুক্রবার ৫ gvP© ২০২১


তিতাসে সার্ভার জটিলতায় মিলছে না জন্মসনদ, বিপাকে অভিভাবকরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.01.2021

মো. মহসিন হাবিব,তিতাস।।
কুমিল্লার তিতাসে আটকে আছে প্রাথমিক উপবৃত্তি কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রেও জন্মসনদ বাধ্যতামূলক থাকায় সেখানেও অভিভাবকদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২০২০ সালের উপবৃত্তির কার্যক্রম রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ থেকে ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন নগদ এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। শিওর ক্যাশ পোর্টালে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক ছিল না। কিন্তু নগদ পোর্টালে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সার্ভার জটিলতায় জন্মসনদ প্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে উপবৃত্তির তথ্য সঠিক সময়ে জমা দেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে জন্মসনদ নিতে আসা অভিবাবক নাজমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় থেকে বলে দিয়েছে জন্মসনদ ছাড়া উপবৃত্তির টাকা পাওয়া যাবে না। আজ নিয়ে তিন দিন আসলাম, কিন্তু এখনো সনদ পাইনি। যদি সঠিক সময়ে জন্মসনদ না দিতে পারি তাহলে তো উপবৃত্তির টাকা পাবো না। এ সমস্যা আমার একার নয়। অনেক অভিভাবক প্রতিদিন জন্মসনদের জন্য এসে ঘুরে যাচ্ছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি যেন দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আলমাস বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য অভিভাবক তাদের সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন করতে এসে ফেরত যাচ্ছেন। গত ডিসেম্বর থেকে সার্ভারে কাজ করছে না। জন্ম নিবন্ধনের সার্ভারটি এ মাসের মধ্যে নতুন ডাইমেনশনে যাবে। এর মধ্যেই আমাদের পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র এই উপবৃত্তির কারণে বা বর্তমান প্রয়োজনের তাগিদে পুরাতন সার্ভারে কাজ চলছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান না হলে উপবৃত্তির টাকা তোলা নিয়ে সংশয় দেখা দিবে।
বন্দরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, অনেক অভিভাবক এখনো আমাদের জন্মসনদ দিতে পারেনি। অপরদিকে জানুয়ারির ১৭ তারিখের মধ্যে আমাদের উপবৃত্তির তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেয়ার শেষ তারিখ। এ সময়ের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। শিশু শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আমরা টিকা কার্ড দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ভর্তি করছি। অভিভাবকদের বলে দেওয়া হয়েছে অবশ্যই জন্মসনদ লাগবে। সার্ভারের সমস্যার কারণে যেহেতু এই সমস্যা হচ্ছে, তাই উপবৃত্তির তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় যেন বৃদ্ধি করা হয় সেই দাবি জানাচ্ছি।
তিতাস উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে সার্ভার সমস্যার বিষয়টি শুনেছি, সারা দেশের ন্যায় তিতাস প্রতিটি প্রথমিক বিদ্যালয়েও একই একই অবস্থা বিরাজমান, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখের মধ্যে উপবৃত্তির সকল তথ্য শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত জন্মসনদের সার্ভারের সমস্যার কারণে উপজেলার কোনো বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তির তথ্য শিক্ষা অফিসে জমা দেয়নি। বিষয়টি আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে অবগত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।