বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১


কুমিল্লার ৩৫৯টি পরিবার পেল মাথা গোজার ঠাঁই


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.01.2021

স্টাফ রিপোর্টার।।
শাহিনা আক্তার। মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার ঠিকানা কুমিল্লা সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রাম। তিন মেয়ে আছে। স্বামী অটোরিক্সা চালক। নিজের ঘর নাই। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে কখনো ভাইয়ের বাড়ীতে, কখনো পাড়া পড়শীর বাড়ীতে মাথা গুজতেন। দূর্বিষহ জীবনে সব সময় চিন্তা করতেন কিভাবে মেয়েগুলোকে বড় করবেন। ভালো বিয়ে দিবেন। তবে এখন সে দুঃচিন্তা থেকে মুক্তি পেলেন। গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পেলেন নতুন ঘরের চাবি। একটি ঘরের মালিক হলেন। এখন মেয়েদের লেখাপড়া ও বিয়ে নিয়ে আর কোন চিন্তা নেই তার। ঘরের চাবি হাতে পেয়ে কেঁদে ফেলেন শাহিনা আক্তার। দু’হাত উপরে তোলে বলেন, আল্লায় শেখ হাসিনা আফারে বাঁচাইয়া রাখুক। তার লাই¹া এহন আর রইদে পুড়তে হইবো, মেঘে বিজতে হইবো না।
দিন মজুর ফজর আলী। তার ৩ ছেলে ১ মেয়ে। অভাবের সংসার। ছেলেরা কাজ করে। মেয়েটি দ্বাদশ শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। কুমিল্লা সদর উপজেলার জামবাড়ী এলাকার একজনের বাড়ীতে থাকেন। নিজের ভিটেমাটি নেই। আজ নতুন ঘরের চাবি হাতে পেলেন। এ সময় ফজর আলী তার অনুভূতি ব্যক্ত করলেন, বাপজান এইডাতো ঘরের চাবি না মনে হয় ঈদের চাঁনডা হাতে পাইছি। এহন আর পরের বাড়ীত থাহন লাগতো না। আল্লাহ পধানমন্ত্রী আফারে বালা রাখবো। আজ বেলা সাড়ে ১২ টায় নতুন ঘরের চাবি পেয়ে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন গৃহহীন মানুষগুলো।
আনুষ্ঠানিকভাবেই শনিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় কুমিল্লা সদর উপজেলা পরিষদে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন সদর আসনের সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা চেযারম্যান এড.ইমনুল ইসলাম টুটুল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া আফরিন।
এছাড়াও সদর দক্ষিন উপজেলায় ১৮ জনের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক আহমেদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, ভাইস চেযারম্যান আবদুল হাই বাবলু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তরের পরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্প হতে প্রথম পর্যায়ে ৫৯৫ টি সেমি-পাকা ঘর নির্মাণে বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৯টি গৃহের নির্মানকাজ শেষ হয়েছে। ২৩৬ টি গৃহের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে আমরা তালিকা করেছি ৩ হাজার ১৭২ টি পরিবারের। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে নতুন ঘর হস্তান্তর করা হবে।