সোমবার ৮ gvP© ২০২১
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ তিন বিলের ১০হাজার একর জমি কুমিল্লার আনকি,সিঙ্গারিয়া ও পয়াতের জলা


জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ তিন বিলের ১০হাজার একর জমি কুমিল্লার আনকি,সিঙ্গারিয়া ও পয়াতের জলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.01.2021

মহিউদ্দিন মোল্লা ।।
কুমিল্লার আনকি জলা(বিল),সিঙ্গারিয়া জলা ও পয়াতের জলা তিনটি পাশাপাশি। তিন বিলের জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রায় ১০হাজার একর জমির চাষাবাদ। বিল গুলোকে সংযুক্ত করেছে ঘুংঘুর নদী। ঘুংঘুর নদী ও এর শাখা খালের বিভিন্ন স্থানে ভরাট,অপরিকল্পিত ব্রিজ,কালভার্ট নির্মাণ হওয়ায় নদীর প্রবাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এতে বিল গুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নে আনকি জলা, আমড়াতলী ইউনিয়নে সিঙ্গারিয়া জলা ও বুড়িচং উপজেলার ষোলনল,বাকশীমূল ও রাজাপুর ইউনিয়নে পয়াতের জলার অবস্থান।
স্থানীয় সূত্রমতে, আনকি জলায় রয়েছে ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের তিন হাজার একর জমি। এর মধ্যে দুই হাজার একর জমি জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ করা যায় না। সিঙ্গারিয়া জলায় রয়েছে ১৫টি গ্রামের মানুষের জমি। এখানে রয়েছে পাঁচ হাজার একর জমি। এই বিলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে প্রায় তিন হাজার একর জমি। পয়াতের জলায় রয়েছে ৫০টি গ্রামের মানুষের জমি। এই বিলে ২০হাজার একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে পাঁচ হাজার একর জমি।
আমড়াতলী ইউনিয়নের সিঙ্গারিয়া জলায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,এখানে আগে দ্ইু ফসল হলেও এখন এক ফসলও সব জমিতে হয় না। এই বিলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে প্রায় তিন হাজার একর জমি। তার মধ্যে এক হাজার একর জমি অনাবাদী থাকে। বিল জুড়ে গুল্ম লতা আর ঘাস রাজত্ব করছে। জলাবদ্ধতার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকে জমি চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এতে বাঁশমঙ্গল, দুতিয়ার দিঘির পাড়, রঘুপুর, তৈলকুপি, ভুবনঘর, শামুকমুড়া, কৃষ্ণপুর, শিমপুর, যশপুরের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঘুংঘুর নদী দ্রুত খনন না করলে জলাবদ্ধতার পরিমাণ বাড়বে। দুই উপজেলায় ফসল উৎপাদন কমবে। সৃষ্টি হবে খাদ্য সংকট।


ষোলনল ইউনিয়নের সোনাইসার গ্রামের বাসিন্দা তরুণ সংগঠক আবদুছ ছালাম বেগ বলেন, পয়াতের জলার জলাবদ্ধতার কারণে ফসল উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এখানের জলাবদ্ধতা দূর করা গেলে কৃষকের মুখে হাসি উঠবে।
বিল গুলোর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ নিয়ে এক দশক ধরে আন্দোলন করা স্থানীয় বাসিন্দা কৃষি সংগঠক নুরুল ইসলাম বলেন,এনিয়ে দিনের পর দিন বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি। বিল গুলো সংলগ্ন ঘুংঘুর নদী ও এর শাখা খালের বিভিন্ন স্থানে ভরাট হয়ে গেছে। অপরিকল্পিত ব্রিজ,কালভার্ট নির্মাণে নদীর প্রবাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এতে বিল গুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নদী ও খাল গুলো খনন না হলে এই এলাকার মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে।
বিএডিসি কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন,আমরা পয়াতের জলার পাশের একটি খাল সম্প্রতি খনন করেছি। পর্যায়ক্রমে অন্য নদী ও খাল গুলোও খনন করা হবে।