শনিবার ৬ gvP© ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ৬০০ দিনে টাকা দ্বিগুণের প্রতারণার অভিযোগে শ্রমিকলীগ সভাপতি কারাগার


৬০০ দিনে টাকা দ্বিগুণের প্রতারণার অভিযোগে শ্রমিকলীগ সভাপতি কারাগার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
31.01.2021

আইটি কোম্পানির নামে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ কোটি টাকা

 

স্টাফ রিপোর্টার।।
অনলাইন ভিত্তিক মাই ন্যাশনাল আইটি কোম্পানির নামে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মহসিন হায়দার ও তার সহযোগী আলাউদ্দিনকে আটক করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ। আটককৃত মহসিন হায়দার (৪০) মুরাদনগর সদর উত্তর পাড়া শানু মোল্লার ছেলে, আলাউদ্দিন (৩৫) পাশ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। রবিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ছয় মাস ধরে মুরাদনগর উপজেলা সদরে চলছিল ‘মাই ন্যাশনাল আইটি নামের হায় হায় কোম্পানির প্রতারণা। এই সময়ের মধ্যে চক্রের দুই সদস্য মুরাদনগর উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মহসিন হায়দার ও আলউদ্দিন হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
তারা মুরাদনগর উপজেলা সদরের ফায়ার সার্ভিসের পেছনে হুমায়ুন ভিলার ৩য় তলায় অফিস কক্ষ ভাড়া নেয়। এই প্রতিষ্ঠানে বসে বায়োফ্লক মাছের প্রজেক্ট, ক্যাটারিং প্রজেক্ট, অনলাইন টিভি চ্যানেল, ন্যাশনাল আইটি সেক্টর, ন্যাশনাল ই-কমার্সসহ ঢাকা এবং গাজীপুরে ৩৬শ’ বিঘার ওপর রিসোর্টের নামে শেয়ার বিক্রি করে।
হুমায়ুন ভিলার মালিক জানান, প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মহসিন হায়দার এই অফিস ভাড়া নেন। তবে প্রতারকচক্রের মূলহোতা মহসিন হায়দারের দাবি এ পেশায় তারা একা নয়, তাদের বস রয়েছে কুমিল্লা নগরীতে। যারা সবসময় থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগী উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের আবদুল হকের ছেলে আবু বক্কর জানান, মহসিন হায়দার তার কোম্পানির একটি একাউন্ট আবু বক্কর কিং নামে খোলে দেয়। পরে সেই অনলাইন একাউন্টে ডলার দিয়ে তার কাছ থেকে নেয়া হয় ২ লাখ টাকা। প্রথম মাসে তাকে শেয়ারের লভ্যাংশ দেয়া হয় ১০ হাজার টাকা। পরের মাসেই মাত্র ৬শ’ দিনে টাকা দ্বিগুণ হওয়ার লোভে সে এক সাথে ১৫ লাখ টাকা জমা দেয়। এরপর সে আর লভ্যাংশ না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে।
এরই মধ্যে আবু বক্করের মতো উপজেলার নবীপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে সাগর মিয়া ও একই গ্রামের সামসুল হকের ছেলে কিবরিয়া, রহিমপুর গ্রামের মতিন সরকারের ছেলে সোহাগ মিয়া, নোয়াগাঁও গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মাহবুব সরকার, নেয়ামতপুর গ্রামের মনিরুল হকের ছেলে মোবাশ্বির ভূইয়া, ভূবনঘর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে বেলাল হোসেন ও আবু হানিফ, গকুলনগর গ্রামের আলী আকবরের ছেলে জুনায়েদ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকারা গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে আল আমিনের কাছ থেকে পর্যাক্রমে প্রায় ৬৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকাসহ প্রায় তিনশ’ সদস্যর কাছ থেকে বিশ্বাস অর্জন করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো.সাদেকুর রহমান জানান, ৬শ’ দিনে টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখিয়ে ‘মাই ন্যাশনাল আইটি ও এক্টিভ বাজার’ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছিল। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কয়েকজন প্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় দেড় মাস চেষ্টার পর শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু বক্কর বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।