শনিবার ৬ gvP© ২০২১


ফুটবল উত্তাপে কুমিল্লা উৎসবের নগরী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.02.2021

মাহফুজ নান্টু

পুবপাশে ধর্মসাগর পশ্চিমপার্শ্বে উজির দিঘি। উত্তরে ঈদগা আর দক্ষিণে কুমিল্লা জিলা স্কুল। তার মাঝে সবুজ ঘাসের আস্তরণ, চমৎকার গ্যালারির বেস্টনি, ভিআইপি আসন, ড্রেসিং রুম, মিডিয়াবক্স। নানান আয়োজনে ঘেরা কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম। মাঠের বাইরে মূল ফটকের বড় হরফে লেখা ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম। নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় থেকে সার্কিট হাউজ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা একবার চোখ বুলিয়ে নেন স্টেডিয়ামের দিকে চেয়ে। এমন নান্দনিক স্টেডিয়ামে খেলা দেখে মুগ্ধ হয় দর্শকরা। ফুটবলের জন্য এখানে রয়েছে সুন্দর সব আয়োজন। আর তাই গত ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ফুটবল প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টুর্নামেন্টের খেলা দেখতে ভীড় করছে দর্শকরা। এ কারণেই কুমিল্লা এখন উৎসবের নগরী।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের সব আয়োজন রয়েছে। আর তাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের অন্যতম জায়ান্ট মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামকে হোম ভ্যেনু বানিয়েছে। সবমিলিয়ে ১৩ টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে এ মাঠে।

কুমিল্লায় বিপিএল টুর্নামেন্টের খেলা দেখতে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন গত ২৩ জানুয়ারি কুমিল্লায় আসেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। খেলা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, মাঠের আয়োজন সুন্দর। খেলা পরিচালনার জন্য মাঠটি উপযুক্ত। এখানে অদূর ভবিষ্যতে দু’একটি আর্ন্তজাতিক ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার সিদ্ধান্ত রয়েছে বাফুফের।

কুড়ি হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে ৩০ টাকা টিকেটের প্রতিটি খেলায় দর্শকদের উপচেপড়া ভীড় থাকে লক্ষণীয়।

সোমবার বিকেলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা কিংস বনাম মোহামেডানের খেলা দেখতে আসেন আবু মেহেদী। তার বাড়ি জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কনেশতলা। আবু মেহেদী বলেন, স্টেডিয়ামটা খুবই সুন্দর। এখানে প্রবেশ ও বাইর হওয়ার রাস্তাটা অনেক প্রশস্ত।

একই ম্যাচ দেখা শেষে মোহামেডানের সমর্থক জুবায়ের বলেন, মোহামেডান হেরেছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। প্রতিটি মিনিটেই আমরা গ্যালারি থেকে উৎসাহ জুগিয়েছি। স্টেডিয়ামের আয়োজন নিয়ে সন্তেুাষ প্রকাশ করে জুবায়ের বলেন, কুমিল্লা স্টেডিয়াম এখন আন্তর্জাতিকমানের।

মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি মন কেড়েছে বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজেন। তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই তার কাছে কুমিল্লার দর্শক ভালো লেগেছে। কুমিল্লার মানুষ ফুটবল ভালোবাসে। স্টেডিয়ামের দর্শকদের উপস্থিতি তারই প্রমাণ।

 

মোহামেডানের কোচ শন লেনের কাছে স্টেডিয়ামটি বেশী ভালো লেগেছে। ঢাকার বাইরে কুমিল্লা স্টেডিয়ামকেই সেরা বলছেন শন লেন ।

কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা যায়, মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস তাদের হোম ভ্যেনু কুমিল্লা স্টেডিয়ামের সংস্কারে অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করেছেন। ভবিষ্যতে এ মাঠে আরো বেশী বিনিয়োগের চিন্তা রয়েছে দল দুটির।

কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আরফানুল হক রিফাত বলেন, স্টেডিয়ামটিকে আরো উন্নত সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের আশা এই স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

মাঠে ফø্যাড লাইট নেই এমন প্রশ্নের উত্তরে আরফানুল হক রিফাত বলেন, ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৩২ ফুট প্রস্থের এ স্টেডিয়ামটি ফ্লাড লাইটের ঝলকানিতে দর্শক খেলোয়াড়রা মুগ্ধ হবে আমরা সে চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছি।