সোমবার ৮ gvP© ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি


শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.02.2021

মাদের কুমিল্লাকে ড. এ কে এম এমদাদুল হক-

ড. এ কে এম এমদাদুল হক। চার বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তার হাত ধরেই কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ সরকারী কলেজের স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে কুমিল্লার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকটাই এগিয়ে এ কলেজটি। গত ১০ মাসের ওপরে দেশের সকল স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসময়ে তিনি শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজে ভার্চ্যুয়ালি অনলাইন কার্যক্রম চালু রেখেছেন। পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান না খুললেও তিনি অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। এ নিয়ে কথা হয় দৈনিক আমাদের কুমিল্লার সাথে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার তৈয়বুর রহমান সোহেল।
আমাদের কুমিল্লা: করোনা পরিস্থিতি সবাইকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঠেলে দিল। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এসময়টা কীভাবে সামলেছেন?
ড. এমদাদ: শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তারা ক্লাসে না থাকলে ভালো লাগে না। করোনার ছুটির সময়ে যাতে সবার মনোবল চাঙা থাকে, সে জন্য সবার সাথে ভার্চুয়্যালি কমিউনিকেট করেছি। মেসেজ, টেলিফোনের মাধ্যমে নিয়মিত তাদের ও অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে মোটিভেট করেছি।
আমাদের কুমিল্লা: কীভাবে মোটিভেট করেছেন?
ড. এমদাদ: নিয়মিত ক্লাস করানোর পাশাপাশি অনলাইনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। সবাইকে গান-কবিতা-টকশো ও পড়াশোনর মধ্যে ব্যস্ত রেখেছি। প্রতি ২৫জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রেখেছি পড়াশোনা ও অন্যান্য খবরাখবর নেওয়ার জন্য।
দৈনিক আমাদের কুমিল্লা: অনলাইন ক্লাসগুলো কীভাবে নিতেন?
ড. এমদাদ: ইউজিসির বিডি রেন জুম অ্যাপসের মাধ্যমে ক্লাস নিয়েছি। শুধুমাত্র লিঙ্ক দেওয়া ছিল, যাতে শিক্ষার্থীরা জটিলতা ছাড়াই ক্লাসে প্রবেশ করতে পারে।
আমাদের কুমিল্লা: অনেক দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন। এসময়ে প্রচুর কাজ করার সুযোগ ছিল । প্রতিষ্ঠানে নতুন কোনো কিছু সংযোজন করেছেন কি?
ড. এমদাদ: আমরা বসে থাকিনি। এসময়ে মসজিদকে পুরোপুরি এসির আওতায় নিয়ে এসেছি, ফ্লোরে ফ্লোরে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছি। সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় রাখা যায়, তার জন্য প্রতিটি কক্ষকে উপযোগী করে তুলেছি। ১০০টি পুরোনো বেঞ্চকে সংস্কার করেছি, যেগুলো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এখানে অনেক টাকা সেভ হয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের থেকে কোনও বেতন নিইনি। বরং যেসব খাতে কোনও ব্যয় হয়নি, ওইসব খাতের টাকা তাদের ফেরত দিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া সমস্ত ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে। ভর্তির টাকা নিয়েছি বিকাশ, নগদ ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে।
আমাদের কুমিল্লা: শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কী কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন?
ড. এমদাদ: শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি। প্রতিষ্ঠান খোলার সাথে সাথে তারা যেন ত্বরিত সেবা পায়, সে লক্ষে এ ওয়ার্ড যুক্ত করেছি। ডাক্তারের পাশাপাশি দুইজন শিক্ষিকা এ ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক থাকবে। এছাড়া বিনামূল্যে রক্ত ও চক্ষু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
আমাদের কুমিল্লা: এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে। সবসময় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভালো ছাত্র আপনারা ভর্তি করেছেন। ফলও ভালো হয়েছে। এবার লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন নিশ্চয়?
ড. এমদাদ: আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো। এ প্রতিষ্ঠানটির গুণগত অবকাঠামো চমৎকার। ভালো গাইডলাইন পেলে ফল এমনিতেই ভালো হবে।
আমাদের কুমিল্লা: করোনার সময়ে আপনাদের অপূর্ণতা কী?
ড. এমদাদ: অনেক অভিভাবক সচেতন নয়। তারা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের প্রতি যত্নবান হননি। এ কারণে অনেকে ক্লাসে অ্যাটেন্ড না করে কোচিং, প্রাইভেট পড়েছে। ভালো ক্লাসগুলো থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে।
আমাদের কুমিল্লা: আর পূর্ণতা?
ড. এমদাদ: প্রতিষ্ঠান তিন বছরে আগে সরকারি হলেও এতদিন আমরা পুরো সরকারি সুবিধা পাইনি। করোনার ছুটিকালীন আমরা সরকারি সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছি। সরকারে কাছে যা চাচ্ছি, তারচেয়ে বেশি পাচ্ছি। এ কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করবো শিক্ষার্থীদের ভালো ক্লাস উপহার দিয়ে।
আমাদের কুমিল্লা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
ড. এমদাদ: আপনাকে একই সাথে আমাদের কুমিল্লার সকল পাঠককেও ধন্যবাদ।