শনিবার ৬ gvP© ২০২১


এক মাসের ব্যবধানে লাকসামে দু’বার রেলের টাকা চুরি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.02.2021

লাকসাম প্রতিনিধি ||
লাকসাম রেলেওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতিতে দুই দফায় যাত্রীবাহী ট্রেন থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা চুরি হলেও এখনো শনাক্ত করা যায়নি অপরাধীদের। পাশাপাশি উদ্ধার হয়নি চুরি হওয়া রেলের টিকিট বিক্রির দেড় লক্ষ টাকা। এ দুটি ঘটনার পর পর তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এখনো মেলেনি কোন প্রতিবেদন। এঘটনায় লাকসাম রেলওয়ে নিরাপত্তা চৌকির এক হাবিলদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে চুরির ঘটনায় রেলওয়ে থানায় কোনও অভিযোগ কিংবা মামলা করেনি কেউ। রেলওয়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার লাকসাম রেলওয়ে জংশনে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নোয়াখালী রুটের, মাইজদী কোর্ট, মাইজদী ও নাথেরপেটুয়া স্টেশনে টিকিট বিক্রির ৯২ হাজার ৭০০ টাকা ২৯ ডিসেম্বর নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী সমতট এক্সপ্রেস ট্রেনে সিন্দুকে ঢুকিয়ে সিলগালা করে তা লাকসাম স্টেশন মাস্টার বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে লাকসাম স্টেশন মাস্টার সিন্দুকটি গার্ড থেকে বুঝে নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে আসা চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেন। ট্রেনের দায়িত্বরত গার্ড চট্টগ্রাম পে অ্যান্ড ক্যাশ অফিসে সিন্দুকটি বুঝিয়ে দিতে গেলে দেখতে পান সিন্ধুকটির তালা ভাঙা। সিন্দুকে নেই টাকা। এ ঘটনায় ৩০ ডিসেম্বর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
অপর দিকে একই কায়দায় চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সমতট এক্সপ্রেস নোয়াখালী থেকে ট্রেনের গার্ড রুমের লকারে তিনটি ব্যাগে থাকা ৫৮ হাজার ৯৮৮ টাকা সিলগালা করে তা লাকসাম স্টেশন মাস্টার বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়। লাকসাম স্টেশনে সিন্দুকটি গ্রহণ করতে গেলে স্টেশন মাস্টারসহ সংশ্লিষ্টরা সিন্দুকের সিল সুতা ছেঁড়া ও তালা ভাঙা দেখতে পান। তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তারা এসে সিন্দুকটি খুলে দেখেন এর ভিতরে কোনও টাকা নেই।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা এবং ২৮ জানুয়ারি ২য় দফায় ৫৮ হাজার ৯৮৮ টাকা খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান আছে। যাদের দায়িত্ব অবহেলায় টাকা খোয়া গেছে তারা নিজ থেকে এ টাকা জমা দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে কর্মচারী জানান, রেলের টাকার ওপর জিনের আছর ভর করেছে। সংশ্লিষ্টরা রেলের টাকা নিজেদের সুবিধামতো কোষাগারে জমা দেন। এভাবেই গায়েব হয়ে যায় রেলের টিকিট বিক্রির লক্ষ লক্ষ টাকা।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশান মাস্টার মো. শাহাবুদ্দীন চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ এমরানের নেতৃত্বে ৪সদস্যের কমিটি টাকা চুরির ঘটনা তদন্ত করছেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মনির হোসেন, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও নিরাপত্তা বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট কমান্ডেট সত্যজিৎ দাস।

লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন জানান, টাকা চুরির ঘটনা শুনেছি, তবে এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় কোনও অভিযোগ বা মামলা হয়নি।