সোমবার ৮ gvP© ২০২১


কাউন্সিলর সাত্তারের পর কাউন্সিলর আলমগীর গ্রেপ্তার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.02.2021

স্টাফ রিপোর্টার।
হত্যা মামলার জামিন নিতে এলে নামঞ্জুর করে কুমিল্লা নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেনকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ এই আদেশ দেন।
এর আগে কুমিল্লার আলোচিত যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে গোলাম জিলানী হত্যা মামলার আসামি সিটি কাউন্সিলর আবদুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২৬ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাত্তার নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং জিল্লুর হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি।
আক্তার হোসেন হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড.আবদুল মমিন ফেরদৌস বলেন, নগরীর চাঙ্গিনী এলাকার বাসিন্দা আকতার হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর আলমগীর এতদিন উচ্চ আদালতের জামিনে ছিলেন। আজ জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তিনি কুমিল্লার আদালতে জামিনের আবেদন করেন,আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
নিহত আকতার হোসেনের ছোট ভাই শাহজালাল আলাল জানান, কাউন্সিলর আলমগীরকে আদালত কারাগারে প্রেরণ করেছে। অনেক হতাশার মাঝে এটাই আমাদের জন্য খুশির খবর। আমার ভাই হত্যা মামলায় কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন ও তার ভাইদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
উল্লেখ্য, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত বছর ১০জুলাই জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে টেনে বের করে কয়েকশত মানুষের সামনে লোহার রড, দা দিয়ে কুপিয়ে আকতার হোসেনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী রেখা বেগম কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১০জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলমগীর হোসেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গত ২৪ জুলাই তাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
এদিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত বছরের ১১ নভেম্বর নগরীর চৌয়ারা এলাকায় যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ঘটনার পরদিন তাঁর ভাই ইমরান হোসেন চৌধুরী সদর দক্ষিণ থানায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই কুমিল্লা।
২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের শামবক্সি (ভল্লবপুর) এলাকায় সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে করে এসে ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ারকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। দেলোয়ার কুমিল্ল¬া দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে ছিলেন। এ ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই মো.শাহাদাত হোসেন নয়ন বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটিও থানা ও ডিবি পুলিশ পর তদন্ত শুরু করে পিবিআই কুমিল্লার সদস্যরা। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের সদস্যরা এ মামলায় সদর দক্ষিণ থানার নোয়াগ্রাম গ্রামের সফিকুর রহমান রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। আনোয়ার মামলার প্রধান আসামি রেজাউলের বিশ্বস্ত সহযোগী। ওইদিন পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে সে দেলোয়ার হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা স্বীকার করে। এরপর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আনোয়ার। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আনোয়ার জানায়, দেলোয়ারকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার। জিল্লু হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।