সোমবার ৮ gvP© ২০২১


যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.02.2021

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর।।
মুরাদনগরে আবাসিক ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে শনিবার সকালে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. হাসানকে আটক করেছে পুলিশ। মাওলানা মো. হাসান উপজেলা সদরের উম্মেহানী মহিলা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও নিমাইকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুছ ছাত্তারের ছেলে। অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ, মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে প্রধান শিক্ষক হাসানকে তার মাদরাসা থেকে আটক করা হয়।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাদেকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসানকে আটক করা হয়েছে। তাকে জেলহাজতে প্রেরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক হাসান তার ১ শ টাকা চুরি হয়েছে এই অভিযোগ এনে হেফজ বিভাগের ১০ বছরের এক ছাত্রীকে তার অফিস রুমে ডেকে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে কারাগারে পাঠানো হয় প্রধান শিক্ষক হাসানকে। পরে সেই মামলায় জামিনে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সেই প্রধান শিক্ষক। বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার মাদরাসার সকল শিক্ষকদের কাছে জানান শিক্ষার্থীরা। ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে মিটিং ডেকে যৌন হয়রানির বিষয়টি সামাধান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শিক্ষকরা। শনিবার সকালে মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত হওয়ার আগেই সকল শিক্ষার্থীদের ডেকে একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে গেলে তাদের ওপরে অজ্ঞান করার স্প্রে করেন প্রধান শিক্ষক হাসান। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বাকিরা দৌড়ে মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানতে পেরে পুরো মাদরাসা এলাকা ঘিরে ফেলে। বিষয়টি মুরাদনগর থানা পুলিশ জানতে পেরে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিভাবক ও স্থানীয়দের হাত থেকে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ওই মাদরাসার একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক হাসানের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির অভিযোগ করতো। যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে কোন প্রকার কারণ ছাড়াই মাদরাসা থেকে বেড় করে দেওয়া হতো।