সোমবার ৮ gvP© ২০২১


ফসলি জমির ওপর দিয়ে ইটভাটার রাস্তা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.02.2021

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ফসলি জমি মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে করে এক দিকে নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরা শক্তি। অপরদিকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে পরিবেশেও। প্রতিদিন দশ-বারটি ট্রাক্টর দিয়ে কেটে নেয়া হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। এতে ধুলায় ঢাকা পড়ছে গ্রামের রাস্তা ও আশেপাশের বাড়িঘর। জমির মাটি কেটে নেয়ায় উঁচু হয়ে যাচ্ছে পাশের জমিগুলো। এতে করে সেচের পানি থাকছে না ওইসব জমিতে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়াকান্দি এলাকায় গড়ে উঠেছে তিন-চারটি ইটভাটা। এসব ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে আনছেন। কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটায় মাটি পরিবহনের জন্য সরকারি জলাশয় (লইস্কা বিল) ভরাট করে এবং কৃষকের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা বানানো হচ্ছে।
উপজেলার রাজামারিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ইটভাটায় ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহনের জন্য আমার জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা করেছেন প্রভাবশালীরা।’
তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। লোকবল নেই। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। সারাদিন ট্রাক্টর চলার কারণে এলাকা ধুলাবালিতে সয়লাব হয়ে গেছে। ইটভাটার মালিক মানিক মিয়া বলেন, ইটভাটা থেকে প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে ১২ কানি ফসলি জমির মাটি কিনেছেন। সেখানে প্রতি জমি থেকে পাঁচ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে।
কৃষকরাই আমাদের কাছে তাদের জমির মাটি বিক্রি করছেন। উঁচু জমিতে ফসল ভালো হয় না, পানি থাকে না তাই তারা আমাদের কাছে তাদের জমির মাটি বিক্রি করছেন।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। তবে স্বেচ্ছায় কেউ মাটি বিক্রি করলে কিছুই করার থাকে না। ট্রাক্টরের ধুলায় ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যেই কাগজপত্র না থাকায় দুটি ইটভাটাকে ৪ লাখ ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছি। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আমাদের অভিযান চলবে।’