শুক্রবার ৫ gvP© ২০২১


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহিণীরা সময়মতো পাচ্ছে না গ্যাস


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.02.2021

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বাসা-বাড়িতে গত কয়েক মাস ধরে চলছে গ্যাসের তীব্র সংকট। এতে করে গৃহিণীদের পরিবারের প্রয়োজনীয় রান্নাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় গ্যাস নির্ভয় কাজ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শহরের দাতিয়ারা, কাউতলী, পুনিয়াউট, পাইকপাড়া ও কালাশ্রীপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অধিকাংশ গ্যাস লাইনে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস থাকে না।
এর ফলে খাদ্য তৈরিতে দেখা দিয়েছে দুরবস্থা। কিন্তু বাস্তবে এই জেলার শহরতলীতে রয়েছে গ্যাসের খনি। অফিসের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড’র (বিজিএফসিএল) অধীন তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। তিতাস ছাড়াও বিজিএফসিএল’র আরো ৪টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। দাতিয়ারা এলাকার গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, সে সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বেলা ৩/৪ টা দিকে গ্যাস আসে। এ দীর্ঘ সময়ে পরিবারের বাচ্চা ও অন্যান্য সদস্যদের খাবার তৈরি করতে পারি না আমরা। সকালে নাস্তা পাড়ার দোকান থেকে প্রায় দিনই কিনে আনতে হয়। আর দুপুরের খাবার তৈরি করতে বিকালে ৫ টা বাজে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান দাবি করছি। কাউতলী এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, শহরের প্রতিনিয়ত বড় বড় ইমারত তৈরি হচ্ছে। সরকারিভাবে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলে অসাধু চক্রের সহযোগিতায় তারা গ্যাস সংযোগ ঠিকই লাগাচ্ছে। এতে করে আমাদের মতো বৈধ গ্রাহকদের লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে। মূল লাইনের সংযোগের পাইপতো মোটা লাগানো হচ্ছে না। তাহলে এসব অবৈধ সংযোগতো এসব লাইন থেকেই নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ সংযোগের কারণেই বৈধ গ্রাহকরা কষ্ট পাচ্ছি। আমরা ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এর সমাধান চাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল হক বলেন, প্রতিটি মহল্লায় সে দীর্ঘ ২৫/৩০ আগের পুরানো পাইপ লাইন সংযোগই রয়ে গেছে। কিন্তু এর মাঝে বিগত সময়ে অনেক লাইনে অনেক নতুন সংযোগ সম্পৃক্ত হয়েছে। আর শীতকালে ঠাণ্ডার বিষয়টি আরেকটি কারণ। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অবৈধ সংযোগের ব্যাপারটা আছে। তবে অবৈধ সংযোগ বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আর গ্যাস না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সমাধানের চেষ্টাও চলছে।