শুক্রবার ৫ gvP© ২০২১


ভালো নেই কুমিল্লার শিক্ষকরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.02.2021

আবদুল্লাহ আল মারুফ।।
শিক্ষকের নগরী কুমিল্লা। এই নগরীর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই টিউশন, কোচিং বা স্কুল কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত থেকে তাদের পড়াশোনার খরচ বহন করছেন। আবার অনেকের একমাত্র আয়ের উৎস শিক্ষকতাই। কিন্তু বৈশ্বিক এই মহামারি আয়ের এই পথে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শৃঙ্খলার এই ব্যবস্থায় পড়েছে অদৃশ্য এক ধাক্কা। তবে শ্রেণিকক্ষে না গিয়েও পাঠদানে অংশ নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। নতুন এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন বিভ্রান্তিকর তেমনি শিক্ষদেরও পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার গুণীজনেরা। অনেকে আর্থিক সমস্যার কারণে এখন ফেরেননি গ্রাম থেকে। আবার অনেকে স্কুল কলেজ খোলার অপেক্ষায় আছেন।
কেমন আছেন কুমিল্লার শিক্ষকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার ফটিক জানান, আমাদের অনেক শিক্ষক এখনও শহরে আসতে পারেনি। কারণ আমাদের সকল কিন্ডারগার্টেন বন্ধ। কোন শিক্ষকই তেমন ভালো নেই। আর্থিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।
কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যায়তনের ইংরেজি শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, শিক্ষকতার পেশায় প্রশান্তি ছিল। কিন্তু করোনাকালের এই পরিস্থিতি পুরোই বদলে দিয়েছে আমাদের। আগে ক্লাসে যেতাম ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথাবার্তা হতো, সময় কাটতো, আর করোনার কারণে সব শেষ হয়ে গেল। বাসায় থাকতে থাকতে একঘেঁয়েমি কাজ করছে আমাদের। অনেকদিন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দেখা হয় না । যদিও অনলাইনে ক্লাসে তাদের দেখি, তবে কষ্ট হয় যখন কিছু শিক্ষার্থীকে দেখি না। মোবাইল কেনার সামর্থ্য নেই বলে অনেকে অনলাইন ক্লাসে যেতে পারে না। সবমিলিয়ে অপেক্ষায় আছি আবার পুরনো স্মৃতিতে যেতে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো: মুনছুর হেল্লাল জানান, করোনার এই সময়টায় আমাদের অনেক সহকর্মীকে হারিয়েছি যে স্মৃতি কখনো ভোলার নয়। আর একটা অজানা শূন্যতা কাজ করছে, কেননা অনেকদিন শিক্ষার্থীদের দেখা নেই । অনলাইন ক্লাসে যোগ দিচ্ছি ঠিকই কিন্তু পুরোপুরি তৃপ্তি পাচ্ছিনা যেমনটা আগে পেতাম।