শনিবার ৬ gvP© ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়, ভোগান্তি ইভিএমে


কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়, ভোগান্তি ইভিএমে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.02.2021

আবদুর রহমান ।।
পহেলা ফাল্গুন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভার নির্বাচন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুকচিরে অবস্থান করা এ পৌরসভাটি বিভিন্ন কারণেই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। রোববার বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এতে কোন ভাটা পড়েনি।
সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটাররা কেন্দ্রে ছুটেছেন তার আগেই। ভোটগ্রহণের শুরু থেকে প্রতিটি কেন্দ্রেই ছিলো ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়। ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে পুরো নির্বাচনের মাঠ যেনো উৎসবের মিলনমেলায় পরিণত হয়। তবে ভোটারদের উৎসবের নির্বাচনে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ইভিএম। প্রথমবারের মতো এই পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ইভিএম পদ্ধতিতে। ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়েছে চরম ধীরগতিতে। কোথাও কোথাও আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট দিতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে বৃদ্ধ ভোটারদের। এতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ভোটারদের।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার বাড়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের উপস্থিতি বিদ্যালয়ের মাঠের ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। কিন্তু ভোটগ্রহণ হয় ধীরগতিতে। উপচে পড়া ভোটারদের বেশিরভাগই নারী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ভোটারদের সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন।
সকাল ১০টার দিকে ওই কেন্দ্রে পরিদর্শনে এসে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান উৎসবে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হচ্ছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্র থেকেই ইভিএমে ভোট দিতে সমস্যার কথা জানানো হচ্ছে আমাকে। ইভিএমে ভোটগ্রহণ ধীরগতিতে হওয়ায় ভোটররা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কষ্ট পাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনেক বৃদ্ধ ভোটারের আঙুলের ছাপ মিলছে না। যার কারণে অনেক প্রবীন মানুষ ভোট দিয়ে গিয়ে চরম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
সকাল ১১টার দিকে বেগম আমেনা সুলতানা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি লাইনে ভোটাররা অপক্ষো করছেন ভোট দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ধীরগতিতে। একই অবস্থা দেখা গেছে উত্তর গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও।
দুপুরে পৌরসভার দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। তবে কিছু কিছু কেন্দ্রের বাইরে নৌকার প্রার্থীর লোকজন অবস্থান নিয়েছে। তারা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পৌরসভার ১৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ১০টি কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখা সম্ভব হয়েছে। এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে ভোটারদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পুরুষ ভোটারদের চেয়ে নারী ভোটারদের লাইন প্রতিটি কেন্দ্রেই ছিলো দীর্ঘ। ইভিএমে ভোগান্তি আর দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিকেল ৪টায় শেষ হয়েছে এ পৌরসভার ভোটগ্রহণ।
এদিবে, ইভিএমে ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো.জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইভিএম পদ্ধতি চালু করা হয়েছে একজনের ভোট যেন অন্যজন দিতে না পারে সেজন্য। অনেক সময় বৃদ্ধ ভোটাররা ইভিএমে আঙুলের ছাপ দিতে ভয় পান বা ঠিকমতো চাপ দেন না। এজন্য অনেকের ক্ষেত্রে একটি ভোট দিতে ৪/৫মিনিটও লেগে যায়। যার প্রভাব পড়ে সকল ভোটারদের ওপর। এছাড়া ইভিএম পদ্ধতি এ অঞ্চলে নতুন। মানুষ এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হতেও কিছুটা সময় লাগবে। তবে নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে বলে জানান তিনি।