শুক্রবার ৫ gvP© ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » মনোহরগঞ্জে বিশ হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনিশ্চয়তায়


মনোহরগঞ্জে বিশ হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনিশ্চয়তায়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.02.2021

আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ।।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলাটি ছিল জলা অঞ্চল নামে খ্যাত। হাউরা, চড্ডা, খরখরিয়া, কেয়ারি, লক্ষণপুর, ভাউপুর, কোম্পানীগঞ্জ, সোনাইমুড়ি, চৌমুহনী, নোয়াখালী হয়ে ডাকাতিয়া নদী প্রবাহিত। নদীর দুই পাড়ে রয়েছে বিশ হাজার হেক্টর জমি, পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি কৃষক। এই নদীটি দিয়ে একসময় চৌমুহনী, সোনাইমুড়ি, লক্ষণপুর বাজার, মনোহরগঞ্জ বাজার, পোমগাঁও, চিতোষি, চাঁদপুর থেকে ব্যবসায়ীরা পাট, ধান, মুদি মালামাল নিয়ে ডিঙ্গি নৌকা, লঞ্চ ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন বাজারে ব্যবসা করতেন।
২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে নদনা খাল-ডাকাতিয়া নদীর মুখে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্লুইস গেট নির্মিত হয়। নির্মাণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্লুইস গেটটি কৃষকের কোনো কাজে আসেনি। উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়েছে। এই খালটির দুই পাড়ে রয়েছে পঞ্চাশেরও বেশি এলএলবি স্কিম । ডিজেল চালিত স্কিম রয়েছে দুইশরও বেশি। দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষক ও এলাকাবাসী স্লুইস গেটটি অপসারণ ও খাল খনন করার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্লুইস গেটের দুই পাশে মাটির কাজ করা হয়নি এবং স্লুইস গেটের ডালাগুলো অকেজো হয়ে আছে। শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা নেই। জোয়ারের পানিও প্রবেশ করতে পারছে না। স্কিম ম্যানেজার খোরশেদ আলম বলেন, আমার চারটি এলএলবি স্কিম রয়েছে। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে খালের পানি না থাকার কারণে কৃষকদের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। স্লুইস গেটটি ভেঙে ফেলা হলে ডাকাতিয়া নদী হতে জোয়ারের পানি খালে উঠবে। স্লুইস গেটের সামনে একটি বাঁধ আছে। ওই বাঁধটি কেটে ফেলা হলে এবং খাল খনন করলে কৃষকরা উপকৃত হবে। কৃষক শাহ্ আলম ও আবুল কাসেম জানান, পলি মাটি নামার কারণে খাল ভরাট হয়ে যায়। স্লুইস গেটটি অপসারণ ও খাল খনন হলে আমরা নৌকা যোগে ইট, বালি, সিমেন্ট নিয়ে বর্ষাকালে মালামাল নিয়ে বাড়ি আসতে পারব। আরেক কৃষক মোখলেস বলেন, ১৬-১৭ বছর থেকে স্লুইস গেটটি খালের মাথায় থাকায় আমরা দেশীয় প্রজাতির মাছ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। স্লুইস গেটটি ভেঙে ফেলা হলে কৃষকসহ এলাকাবাসী উপকৃত হবে।