শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১


মামলার ৪০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কোনো আসামি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.03.2021

হাশিম হত্যাকাণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার ।।
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নলুয়া চাঁদপুর গ্রাম। স্থানীয় ফিরুজ উদ্দিন বাবুলের হাতে গত ২২ জানুয়ারি রাতে খুন হয় আবুল হাশেম। নলুয়া চাঁদপুর বাজারের নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন খুন হওয়া আবুল হাশেম। খুন হওয়ার পর সদ্য স্বামী হারানো আবুল হাশেমের স্ত্রী বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলার ৪০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো আসামি ধরতে পারেনি পুলিশ। এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন আবুল হাশেম। হাসি-খুশি ও ভালোমনা এই মানুষের মৃত্যুতে কান্না থামছে না নলুয়া চাঁদপুরের মানুষের। নিরীহ আবুল হাশেমের জন্য কাঁদছে স্বজনসহ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণ। নিহতের পরিবার, নলুয়া চাঁদপুর গ্রামের নির্বাচিত মেম্বার, মসজিদের ইমাম, স্কুলের শিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক সংঘটনের লোকজন, কৃষকসহ গ্রামবাসী প্রায় সবার চোখেই যেন পানি। আর মুখে মুখে শুধু আবুল হাশিম হত্যাকারীর বিচার চাই, ফাঁসি চাই।
নিহত হাশেমের স্ত্রী ও মামলার বাদী মালেকা বানু হত্যার কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে মোবাইলে কথা বলার সময়ই বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন। নলুয়া চাঁদপুর গ্রাম ও বাজারের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাবুল আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। কিছু দিন পর পরই এলাকায় আধিপত্য দেখাতে গিয়ে যার তার সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে বাবুল। যাতে তার ভয়ে গ্রামবাসী তটস্থ থাকে।

নলুয়া চাঁদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, বাবুল আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। সে যার তার সাথেই ঝামেলায় করে বসে। তার বাড়ির মানুষেরাও তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। এক কথায় গ্রামের সবাই তার প্রতি ক্ষিপ্ত। আমরা তার বিচার চাই।

লক্ষ¥ীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি এতো উন্নত, কিন্তু এখনও হত্যাকারী গ্রেপ্তার হচ্ছে না । এটা আসলেই দু:খজনক। আমরা দ্রুত হত্যাকারীর গ্রেপ্তার চাই

স্থানীয় সামাজিক সততা যুব ক্রীড়া সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটাই চাওয়া, আমরা আবুল হাশিমের হত্যাকারীর বিচার চাই।

স্থানীয় সামাজিক একতা যুব ক্রীড়া সংঘের আহ্বায়ক বাবুল মিয়া জানান, আবুল হাশেম একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার পরিবারে সাতজন মেয়ে সদস্য রয়েছে যাদের দেখভাল করার কেউ নেই। আমরা হত্যাকারীর বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

নলুয়া চাঁদপুর গ্রামের মসজিদের ইমাম ওসমান গণি বলেন, আবুল হাশেম খুবই নিরীহ মানুষ ছিলেন। সব সময় বাজারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতেন। এই ভালো মানুষের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

আবুল হাশেম যে বাজারের নৈশপ্রহরী ছিলেন সেই বাজারের সভাপতি জাবের হোসাইন জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ রাখছি, যাতে হত্যাকারীকে খুব শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা হত্যাকারীর বিচার প্রত্যাশা করছি।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন লক্ষ¥ীপুর ইউনিয়ন ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি ও প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, আবুল হাশেম খুবই অসহায় মানুষ, কিন্তু হত্যাকারী ও তার আত্মীয় স্বজনরাও স্থানীয়ভাবে খুবই প্রভাবশালী, এ জন্যই হয়তো গ্রেপ্তার হচ্ছে না।

নলুয়া চাঁদপুর গ্রামের আবুল কাশেম ও নিহতের চাচাতো ভাই জানান, আবুল হাশেমের জন্য সারা গ্রাম কাঁদছে। শুধু গ্রাম নয় বাজারে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন, সবাই আবুল হাশেমকে কতটা ভালবাসে, পছন্দ করে। তার কোন শত্রু নেই। সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবুল মিয়া তাকে হত্যা করেছে। আমরা তার বিচার চাই।

লক্ষ¥ীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, আমি স্থানীয়দের সাথে একাত্মতা পোষণ করে বিচার চাই। দ্রুত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে বাবুলকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।

মামলার বাদী ও নিহত হাশেমের স্ত্রী মালেকা বানু বলেন, দেশ দশের মানুষ জানে বাবুল খুনি। আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট এখনও পুলিশ আসামি ধরতে পারে নাই। আমার সাত মেয়ে। আমার কোনো ছেলে নেই। আমি কার আশায় বাঁচুম, কে আমারে দেখভাল করবো। আমার টাকা পয়সা নাই বলে কি বিচার পামু না? যে আমার মেয়েগুলারে এতিম করছে আমি তার বিচার চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মেহেদী বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আসামি গ্রেপ্তারের জন্য।
উল্লেখ্য,গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ¥ীপুর ইউনিয়নে রাতের আঁধারে এক গার্ডকে খুনের অভিযোগ উঠে। খুন হওয়া ওই ব্যক্তি এলাকার নলুয়া চাঁদপুর গ্রামের দোকানি বাড়ির আবুল হাশেম (৬০)। নিহত আবুল হাশিম এলাকার নলুয়া চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে বহুদিন যাবত নাইট গার্ডের কাজ করে আসছিলেন। কিছু দিন আগে এলাকার বাবুল মিয়া (৫০) নামের এক ব্যাক্তির সাথে হাশেমের কথা কাটাকাটি হয়। বাবুল মিয়া বহুবার আবুল হাশিমকে হুমকি দেয়। সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি রাত প্রায় ২ টার দিকে বাবুল মিয়া বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এত রাতে বাস স্ট্যান্ডে আসার কারণ জানতে চাইলে বাবুল মিয়া নাইট গার্ড আবুল হাশেমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এক পর্যায়ে বাবুল মিয়া আবুল হাশেমের মাথায় আঘাত করলে আবুল হাশেম মারা যায়।