শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » চান্দিনা ও নাঙ্গলকোটে অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি


চান্দিনা ও নাঙ্গলকোটে অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.03.2021

চান্দিনা ও নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার চান্দিনা ও নাঙ্গলকোটে পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অগ্নিকাণ্ডের দুটি ঘটনাই ঘটে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে।
চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের ওরাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি মার্কেটের ৫টি দোকান ভস্মীভূত হয়।
এতে ৫ টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে দোকানে থাকা নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও মালামালসহ ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মার্কেটের মালিক মো. আবদুল জলিল। খবর পেয়ে বরুড়া ফায়ার স্টেশনের দমকল কর্মীরা আগুন নিভাতে সক্ষম হয়।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের মালিক আবদুল জলিলের স্ত্রী মোসা. হাওয়া আক্তার ওই ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে মার্কেটে অগ্নিসংযোগর অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় একই গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে মোবারক হোসেন (৪২) ও জালাল হোসেন (৩৮), মোবারক হোসেনের ছেলে জামাল (৩৫) ও শাহজাহান (৩২) তাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মার্কেটের ৫ টি দোকান পুড়ে ছাই হয় এবং নগদ ৫ লাখ টাকা ও মালামালসহ ৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

অপরদিকে মার্কেট মালিক আবদুল জলিল ও তার স্ত্রী মোসা. হাওয়া আক্তার বিকেলে চান্দিনা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেন। তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ শামস্উদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এদিকে নাঙ্গলকোটের পশ্চিম বাম পাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদের মালিকানাধীন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর শুক্রবার ভোর রাতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ওই ব্যবসায়ীর অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম বাম পাড়া উত্তর পাড়ার হাজী আলী মিয়ার ছেলে আব্দুর রশিদ মেম্বার শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখে তার বাড়ির পাশে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় লেগে যায়। এ সময় তার দোকানে রক্ষিত নগদ ২ লাখ ৭ হাজার টাকা, প্রায় ১৬ লাখ টাকার মালামাল ও আধাপাকা দোকানঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হলেও তারা পাশ্ববর্তী লাকসাম থেকে আসতে বিলম্ব হয়। ধারণা করা হচ্ছে শত্রুতাবশত কেউ আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।
দোকানের মালিক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, আমার একমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি আগুনে পুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় শুরু করতে আমি সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।