বুধবার ২৯ †m‡Þ¤^i ২০২১


পিঁড়িতে বসা খোলা সেলুন!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.06.2021

এন এ মুরাদ,মুরাদনগর।।
সভ্যতার বির্বতনে মানব জীবনের গতিধারায় এসেছে পরিবর্তন, লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। জেন্স পার্লারগুলোতে বাহারি রঙের হেয়ার স্টাইলের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে হাট-বাজারে পিঁড়িতে বসা ‘হাঁটুর সেলুন’। এখন আর সর্বত্র এই সেলুনের দেখা পাওয়া যায় না। তবে হাঁটুর সেলুনের দেখা পাওয়া গেছে মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর গ্রামে। সেখানে প্রতিদিন সকালের আড়ং বসে। সেই আড়ংয়ের এক কোনে নরসুন্দরের কাজ করেন বলাই চন্দ্র শীল (৬৫)। তিনি নবীপুর শীল বাড়ির স্বর্গীয় অবনী চন্দ্র শীলের পুত্র । বলাই শীল বলেন, আমি পঞ্চাশ বছর ধরে এই পেশায় আছি। বাপ দাদার রেখে যাওয়া আদি পেশা তাই ধরে রেখেছি। এখন আর কাজে মজা নাই। একসময় গ্রামে আমাদের হাওন ছিল। বছর শেষে হাওন থেকে দেড়-দুইশ মন ধান পেতাম। তরি -তরকারিও খুব একটা কেনা লাগত না। ওই দিনগুলোই ভালো ছিল।
এখন দিন শেষে ৮০-৯০ টাকা কাজ করতে পারি। আমার কাছে যারা আসে তাদের বেশির ভাগই বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে । আগে সাপ্তাহিক বাজার ছাড়াও সারা বছর মানুষ আমাদের বাড়িতে এসে বাবার কাছে পিঁড়িতে বসে চুল কাটাত। চুলের কি স্টাইল হবে তা মুরুব্বিরা ঠিক করে দিত। অনেকে এসে বলত, মাথা একেবারে মুণ্ড করে দিব। মুণ্ড মানে চার দিক একরকম ছোট হবে চুল হাতে ধরা যাবে না। কারো চুল সামনে দিয়ে একটু বড় হলে মুরুব্বিরা আবার বাচ্চার কান ধরে নিয়ে আসত। এক সাথে চার-পাঁচজন মানুষ আসত, তখন অনেক জাঁকজমক ছিল । বেশি লোক জমায়েত হয়ে গেলে বাবা হুক্কায় ধরিয়ে দিত। সিরিয়াল পাওয়ার জন্য গাছতলায় বসে হুক্কা টানত।


শীল বাড়িতে গিয়ে চুল কাটার রেওয়াজ ১৯৯৫ পর উঠে গেছে। হাট-বাজারে দু’ই একজন পাওয়া গেলেও কাজের খরায় ভুগছে তারা। তাই অনেক শীল পেশা বদলিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। একসময় শুধু শীলরা এ কাজ করত। বর্তমানে চণ্ডাল, মালি, ধোপাসহ অন্যান্যরাও এ পেশায় প্রবেশ করেছে। সেলুনগুলো উন্নত ডেকোরেশন আর বাহারি রঙের সাজ সরাঞ্জামে সাজানো হয়েছে। এতে অনেক রকম হেয়ার স্টাইল ঝুলানো থাকে। কিছু স্টাইল হয় সেলিব্রেটি, নায়ক, গায়ক, খেলোয়ার, ইউটিউবার, ডিজে, টিকটক নামে। ওই স্টাইল দেখে কাটা হয় চুল। সময়ের সাথে সেলুন পেশার চাকচিক্য ও কদর বেড়েছে। বেড়েছে আয় । কমেছে হাট-বাজারে বট বৃক্ষের শীতল ছায়ার নিচ কিংবা প্রখর রোদ্রে লোহার উঁচু শিখে টানানো ছাতায় ঘেরা পিঁড়িতে বসা সেলুন।