বুধবার ২৯ †m‡Þ¤^i ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » আইসিএল গ্রাহকদের টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন


আইসিএল গ্রাহকদের টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.06.2021

আইসিএল গ্রাহদের টাকা ফেরতের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে আইসিএল কর্তৃক প্রতারিত গ্রাহক সমিতি। ১৬ জুন বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইসিএল কর্তৃক প্রতারিত গ্রাহক সমিতির আহবায়ক শফিউর রহমান এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, রাজধানীর বাংলামোটর একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দেশে এমএলএম এর নামে পরিচালিত প্রতারণা বাণিজ্যের গডফাদার হিসেবে খ্যাত আইসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী শামসুন্নাহার মিনাকে গত ২৬ মে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাব গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত দম্পতিকে আটক করে । গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠায়। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গডফাদার শফিক আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ তথা আইসিএলের ব্যানারে মাসিক সঞ্চয় স্কিম, লক্ষপতি স্কিম, কোটিপতি স্কিম ইত্যাদি মনোহর নামের আড়ালে নানা কর্মসূচি পরিচালনার বাহানায় ৫ লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আমানত গ্রহণ করেছে। তার এই অপকর্মের দোসর হিসেবে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছে শামসুন্নাহার মিনা, শ্যালক কাজী ফখরুলসহ অন্যান্যরা। সাধারণ নিরীহ মানুষের কাছ থেকে মুনাফার লোভ দেখিয়ে সংগ্রহ করা কোটি কোটি টাকা শফিক ব্যবহার করেছে নিজের বাসন ও ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ার কাজে। মালয়েশিয়ায় করেছেন সেকেন্ড হোম, নেপালে কিনেছেন কমলা বাগান। দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় জমি, বাগান, রিসোর্ট, নিজস্ব কটেজ নির্মাণ করেছেন। প্রতারনা বুদ্ধিও গুরু শফিক প্রথমে সমিতির নামে সম্পত্তি ক্রয় করে। পরবর্তীতে নিজের স্ত্রী ও ছেলে মেয়ের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করে। আইসিএল গ্রাহকদের মধ্যে কেউ কেউ এই সম্পত্তির খুঁজ জেনে যাওয়ার প্রেক্ষিতে শফিক সম্প্রতি তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন। এমন কৌশল করে এই প্রতারক রফিক বছরের পর বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছেন নিজেকে। এইচএনএম শফিকের নামে দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। বেশ কিছু মামলায় সে সাজা প্রাপ্ত। কিছু কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে অন্তত ৫০ টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ধর্ষ প্রতারক নানা কৌশল খাটিয়ে এতদিন নিজেকে রক্ষা করে চলছিলেন। প্রতারিত গ্রাহকরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর শফিক গংরা চালিয়েছেন নির্যাতন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, আইসিএল গ্রাহক মাহবুব আলম এ বছরের গত ১৫ ফেব্রুয়ারি খিলক্ষেত থানায় (বিট-৪) এর নিকট এ মর্মে মামলা দায়ের করেন যে, তাকে শফিক ও তার অন্যতম সহযোগী শিমুলসহ ৯ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক অপহরণ করে। তার কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে চেকের মাধ্যমে টাকা আদায় ও ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর গ্রহন করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পেনাল কোড ১৮৬০, বাংলাদেশ দন্ডবিধি ধারা ৩৬৫/৩৮৬/৫০৬/১০৯।
সংবাদ সম্মেলনে শফিউর রহমান আরো বলেন, এমনিভাবে শফিকের নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার লাখো মানুষের আহাজারিতে জেলা-উপজেলা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের জনপদের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। সমবায় আইন অমান্য করে শাখা কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যাংকিং ব্যবসা করা, সমবায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে এই ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া শফিকুর রহমানের একটি কৌশল।
সমবায় অধিদপ্তরের এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক কর্তৃক মামলা ও তদন্ত পরিচালিত না হলে এসব প্রতারকদের দ্বারা সাধারণ মানুষ সারাজীবন প্রতারিত হতেই থাকবে। র‌্যাব কতৃক শফিক আটক হওয়াার ঘটনাটি কে আমরা স্বাগত জানাই। আইন অনুযায়ী তার শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তবে এক্ষেত্রে আইসিএল কর্তৃক প্রতারিত ক্ষতিগ্রস্ত সর্বহারা, মানুষের আত্ননাতের আওয়াজটি আমরা সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে দেশের জনগণ প্রশাসন, বিচারিক কতৃপক্ষের গোচরে আনতে চাই। এদের প্রতারণার জালে আটকা পড়ে বহু মানুষ তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। ভিটাবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করে আইসিএলের নথিপত্র যাচাইপূর্বক প্রতারিত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দাবি জানাচ্ছি আমরা। আইসিএলের সম্পদসমূহ ক্রোক করে সরকারি ব্যবস্থাপনার কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য অনুরোধ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আইসিএলের প্রতারিক গ্রাহক সমিতির মনিরুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এসময় আইসিএলএর প্রতারিত শতাধিক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।