বুধবার ২৯ †m‡Þ¤^i ২০২১


মাছ কেটে চলে তাদের সংসার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.06.2021

আবদুল্লাহ আল মারুফ।।
লিটন। বয়স ১৮। বসে আছেন টমছমব্রিজ মাছ বাজারের কোণে। সামনে বটি দা আর কাঠের টুকরো। পাশে তার মতো আরও তিন থেকে চার জন যুবক। সারাদিন তার কাজ বসে থাকা আর মাছ ক্রেতারা মাছ নিয়ে আসলে কেটে দেয়া। মাঝে মধ্যে সে নিজেই ছুটে যায় মাছের দোকানে। মাছ কিনতে আসা ক্রেতাদের জিজ্ঞাসা করেন মাছ কাটাবেন কিনা? সাড়া দিলেন মাছ নিজে বহন করে নিয়ে আসেন কাটার জায়গায়। এরপর সহযোগীরাসহ কাটেন মাছ। তুলে দেন ক্রেতার হাতে। মাছ হাতে দিয়ে নেন নিজের পারিশ্রমিক। এভাবে সারাদিন যা আয় করবে পরদিন তার পরিবার ঠিক সেই টাকা থেকেই বাজার করবে। পরিবারের একমাত্র আয়ের ব্যক্তি সে নিজেই।
কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়। সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতার সরগরম। মাছ নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতারা করছেন দর কষাকষি। তখন পাশে দাঁড়িয়ে দেখে কয়েকজন যুবক। মাছ কেনা হলে ক্রেতাকে বলেন, ‘ভাই মাছ কাটবেন?’ ক্রেতা যখন হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়েন আর ওই যুবকরা মাছের ব্যাগটি নিয়ে যায়। ব্যাগ থেকে মাছ নামিয়ে নেন। কেউ বটি নিয়ে বসেন। কেউবা মাছের আঁশ ছাড়ানোর যন্ত্র হাতে নেন। শুরু হয় মাছ কাটা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন মাছ ক্রেতা। আঁশ ছাড়ানো শেষ। অন্যজন মাছটি টুকরো করেন। কখনো ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী আবার কখনো সাইজ অনুযায়ী নিজেরাই মাছের টুকরা করেন। কাটা শেষ হলে ব্যাগে তুলে দেন মাছ। এভাবে পালা করে মাছ কেটে দেন তারা। আর মাছ কেটে দিয়ে মাসে অন্তত ৪৫-৫০ হাজার টাকা আয় করেন তারা। আবার অনেকে মাসিক টাকার বিনিময়ে কাজ করেন অন্যের দোকানে।
সরোয়ার আলম নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমি অনেকদিন যাবৎ রাজগঞ্জ বাজারে ব্যবসা করি। আমার মাছ দোকানের পাশে আমার ভাতিজাসহ চারজন যুবক মাছ কাটেন। এদের প্রত্যকের প্রতিদিনের আয় থেকে আমি টাকা দিয়ে দিই। অনেক দোকানে মাসিক হিসেবেও টাকা দেয়।
চার বছর ধরে কুমিল্লা রাজগঞ্জ বাজারে মাছ কাটেন ছবির হোসেন। মাছ কেটে মাসে ৪৫-৫০ হাজার টাকা আয় করেন। ছবির কীভাবে এ পেশায় এলেন তার গল্প জানা। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে মাছ বিক্রেতা মামার সাথে প্রথমে যোগ দেন মাছের দোকানে। পরে ২০১৬ সালে মামা দোকানের পাশেই মামা মিজানুর রহমান কিনে দেন মাছ কাটার সকল যন্ত্রপাতি। প্রথমদিকে অনেকবার হাত কাটলেও এখন তিনি মাছ কাটায় অন্য দশজনের চেয়ে অভিজ্ঞ।
টমছমব্রিজ বাজারের আমির হোসেন জানান, প্রতি কেজি মাছ কাটার জন্য নেন ১০ টাকা করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গড়ে দুইশ থেকে আড়াই’শ কেজি মাছ কাটেন। ১০ টাকা করে কেজি প্রতি পারিশ্রমিক নেয়। আড়াই’শ কেজি মাছ কাটলে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পান। সে হিসেবে মাসে ৭৫ হাজার টাকা আয় হয়। এই টাকার মধ্য গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আমিরের সহকারী ও বাজারের খাজনা বাবদ ব্যয় হয়। বাকি ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা আমিরের মাসিক আয়।
নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার স্কুল শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে রাজগঞ্জ বাজারে এসেছেন। ৫ কেজি কাতল মাছ কিনেছেন। তিনি জানান, মাছ কাটা অনেক ধৈর্যের কাজ। বাসায় মাছ কাটতে ছাই লাগে। বাসায় সব সময় ছাই থাকে না। এছাড়াও কই ও শিং মাছ কাটা অনেক কষ্টসাধ্য। বাজারের যারা মাছ কাটেন তারা খুব সহজেই যে কোন মাছ খুব কম সময়ে কেটে দেন। বিষয়টা কর্মজীবী মানুষের জন্য অনেক উপকার হয়।