বুধবার ২৯ †m‡Þ¤^i ২০২১


দ্বিপাক্ষিক ভুলে এক পাক্ষিক সিদ্ধান্ত


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.07.2021

মহিউদ্দিন মাহি, কুবি।।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে এক সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতি দিয়ে ‘আবেদনের প্রক্রিয়াগত ভুল’র অভিযোগে পরবর্তী সভায়ই তা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের পদোন্নতি স্থগিত হলেও যাদের ভুলের কারণে আবেদনপত্র সিন্ডিকেট পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রশাসন।
জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বিবদ্যালয়ের ৭৯ তম সিন্ডিকেটে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী এম. আনিছুল ইসলামকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয় প্রশাসন। পদোন্নতির জন্য পূর্বের কোন কর্মস্থলে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা যোগ করতে চাইলে সে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ‘টু রেজিস্ট্রার’ লিখা অগ্রায়িত পত্র দাখিল করতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ তম সিন্ডিকেটে একটি প্রবিধি যোগ করা হয়েছে। শিক্ষক আনিছুল ইসলামের সে অগ্রায়িত পত্রে ‘টু রেজিস্ট্রার’র পরিবর্তে ‘টু হোম ইট মে কনসার্ন’ লিখা থাকার অভিযোগে গত রোববার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ তম সিন্ডিকেট সভায় তার পদোন্নতি স্থগিত করেছে প্রশাসন।
কাজী আনিছুল ইসলাম বলেন, আমি গত ডিসেম্বরে সহকারী অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশনের জন্য আবেদন করি। সেটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে পৌঁছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে বোর্ড আহবান করা হয় এবং আমি বোর্ড ফেইস করি। সিন্ডিকেট (৭৯ তম) থেকে আমাকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত সহকারী অধ্যাপক পদে অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার আসে (২৮ ফেব্রুয়ারিত)। তার ভিত্তিতে আমি ১ মার্চ এ পদে যোগদান করি।
তবে মঙ্গলবার আমি সংবাদ মাধ্যম মারফত জানতে পারি আমার আবেদনপত্রে ‘টু হোম ইট মে কনসার্ন’র পরিবর্তে ‘টু রেজিস্ট্রার’ লিখা থাকতে হতো। তবে এখনো পর্যন্ত আমি স্থগিতের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কোনধরনের লিখিত কাগজপত্র পাইনি, কাজী আনিছ যোগ করেন।
প্রশ্ন উঠেছে, আবেদনের প্রক্রিয়াগত ভুল থাকলে আগের সিন্ডিকেট সভায় কীভাবে কাজী আনিছকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং সে ভুল কেন তখন ধরা পড়েনি তা নিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজী আনিছুলের একজন সহকর্মী বলেন, শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির শিকার কাজী আনিছ। তাঁর (কাজী আনিছুল) আবেদন প্রক্রিয়ায় যদি সমস্যা থেকে থাকে তাহলে বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে কীভাবে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ যায়? এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।
এদিকে ৮০ তম সিন্ডিকেটের এক সপ্তাহ আগে রেজিস্ট্রার কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিতে শিক্ষক আনিছুল ইসলামের নামের আগে প্রভাষক লিখা হয়েছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও তাঁর পদবি পরিবর্তন করে প্রভাষক লেখা হয়েছে। অথচ সেসময় তিনি সহকারী অধ্যাপক পদের সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন।
৮০তম সিন্ডিকেটের এক সপ্তাহ আগেই পদ পরিবর্তন করে ডায়েরি প্রকাশ ও ওয়েবসাইটের তথ্য পরিবর্তন করে ৭৯তম সিন্ডিকেটের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক শিক্ষক।
এ ব্যাপারে কাজী আনিছুল ইসলামের আরেক সহকর্মী বলেন, সিন্ডিকেটের (৮০ তম) সিদ্ধান্তের আগেই ডায়েরি এবং ওয়েবসাইট থেকে পদবি মুছে দিয়ে এ সভার (৭৯তম সিন্ডিকেট) সিদ্ধান্ত ভায়োলেট (লঙ্ঘন) করা হয়েছে।
আবেদনের প্রক্রিয়াগত ভুলের জন্য কাজী আনিছের পদোন্নতি স্থগিত করা হলেও যাদের গাফলতিতে আবেদনপত্রের সুপারিশ সিন্ডিকেট পর্যন্ত গিয়েছে, তাদের ব্যাপারে এখন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ব্যাপারে জানতে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড মো. আবু তাহেরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এটি (স্থগিত) ৬৮ তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছে। তাকে (কাজী আনিছ) পদোন্নতি দেওয়া হলে এ সিদ্ধান্ত ভায়োলেট হতো।
তবে যাদের ভুলে এ আবেদনপত্র সিন্ডিকেট পর্যন্ত গিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের (দপ্তর) ভুলতো আছে অবশ্যই। এ ব্যাপারে বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিঠি দেওয়া হবে।