বুধবার ২৯ †m‡Þ¤^i ২০২১


দেড় বছরেও উন্মোচন হয়নি শাবাত খুনের রহস্য


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.07.2021

মাহফুজ নান্টু।।
গুনে গুনে দেড় বছর পার হলো। এখনো আমার ছেলের খুনের রহস্য উন্মোচন হয়নি। আমার ছেলের খুনিরা কি আটক হবে না ? আমার ছেলে খুব ভালো ছিলো। তার কোনো শত্রু ছিল না। রাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়। আর কত দিন অপেক্ষা করলে আমার ছেলের খুনিরা আটক হবে। আমি আর পারছি না। কথাগুলো বলতে বলতে আর্তনাদ করে উঠলেন শাবাত খানের মা রাফিয়া আক্তার।
কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা ডা. লিয়াকত আলী ও রাফিয়া আক্তার ডেইজি দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে শাবাত খান। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে বাসা থেকে বের হন শাবাত খান। এরপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি তাঁর। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি অর্থাৎ পরদিন প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন শাবাতের লাশ গোমতী নদীতে ভাসছে।
২ জানুয়ারি বাবা ডা.লিয়াকত আলী খান বাদী হয়ে ১০ জনের নামোল্লোখ করে কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
শাবাত খানের মা কুমিল্লা মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রাফিয়া আক্তার ডেইজি। তিনি বলেন, পুলিশের কাছে আমি সব তথ্য উপাত্ত দিয়েছি। যখন যা জানতে চেয়েছে তাই জানিয়েছি। আজ দেড় বছর পার হলো তবুও শাবাতের খুনিরা ধরা পড়লো না। গত দেড় বছরে এমন কোন দিন নেই আমি শাবাতের কথা মনে করে কাঁদিনি।
ছেলে হারিয়ে শোকার্ত ডা. লিয়াকত আলী। তিনি এখন অসুস্থ। কথা বলতে কষ্ট হয়। তিনি জানান, গত ২০২০ সালের ১২ মার্চ শাবাত খানের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসে। যেখানে উল্লেখ রয়েছে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। আমরা পুলিশকে সম্ভাব্য সব রকম তথ্য উপাত্ত দিয়েছি।
দেড় বছর আগে ভাই হারিয়েছেন ডা.শারমিন খান। এখনো প্রতিদিন ছোট ভাই শাবাত খানের কক্ষে যান। ডা.শারমিন খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটা সারাক্ষণ তার মামাকে খোঁজে। আমার ছেলেটা আমার ছোট ভাই শাবাতের সাথে থাকতো, খেলতো। মামাকে হারিয়ে আমার ছোট্ট ছেলেটাও খুব একা হয়ে গেছে। মামার রুমে গিয়ে মামাকে খোঁজে। আমার খুব আদরের ভাই ছিলো শাবাত। শারমিন খান বলেন, তথ্য উপাত্তবিহীন কত খুনের রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ। আসামিদের আটক করে। আমার ভাইয়ের খুনের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন খুনিদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়।
শাবাত খানের বন্ধু রিয়াজ হোসেন তানিম বলেন, শাবাত খুবই পরোপকারী। যে কারো বিপদে সবার আগে এগিয়ে যেতো শাবাত। কে বা কারা তাকে খুন করলো কিছুই বুঝতেছি না। তবে দেড় বছর হয়ে গেলো এখনো কোন আসামি ধরা পড়ছে না। এটা খুবই বিস্মিত করছে ।
খবর নিয়ে জানা যায়, প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহীন কাদির। মাত্র ১০ দিন পরেই মামলার তদন্তভার ন্যস্ত হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।
এখন মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই পরিদর্শক মতিউর রহমান। তিনি জানান, আমরা এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রকার ক্লু বের করতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করছি।
এ মামলায় ১০ জনের নামোল্লেখ রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মতিউর বলেন, তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে উল্লেখ করার মতো কোন রকম তথ্য উপাত্ত পাইনি। তবে আমরা আশাবাদী। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই খুনের রহস্য উন্মোচন করতে পারবো।