শনিবার ১৮ †m‡Þ¤^i ২০২১


ধর্মসাগরে মাছ শিকারে উৎসবের আমেজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.09.2021

রুবেল মজুমদার ।।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগরে শৌখিন মৎস্য শিকারিদের মিলনমেলা বসছে। শুক্রবার (৩সেপ্টেম্বর) থেকে গতকাল শনিবার(৫সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পর্যন্ত দুইদিন ব্যাপী নগরীর ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগরের পাড়ে বিভিন্ন জেলার স্থান থেকে আসা শিকারিরা জড়ো হয়ে মাছ শিকার উৎসবে।
শনিবার(৫ আগস্ট) বিকালে নগরীর ধর্মসাগরে দেখায় যায়,কারও হাতে বড়শি,আবার কারও হাতে মাছের খাবার। কউ কেউ আবার মোড়া ও মাছ রাখার জাল নিয়ে এসেছেন। মৎস্য শিকারের উৎসবে কুমিল্লা, ঢাকা,চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন অনেকেই। ধর্মসাগরের চার পাড়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠেন কয়েক শ মৎস শিকারি। শনিবার সন্ধ্যায় পর্যন্ত চলে এ মৎস শিকার উৎসব।মাছ শিকার দেখতে নগরী বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসেছেন হাজার পাঁচেক উৎসুক জনতা ।
এ মাছ ধরার উৎসবে বড়শিতে ধরা পড়ে রুই, কাতল, বিগহেড, মৃগেল, তেলাপিয়া, কালবাউশ, পাঙাশসহ দেশি প্রজাতির নানা জাতের মাছ। নগরের ধর্মসাগরপাড়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন এক মিলনমেলা চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধর্মসাগরের চার পাড়ে বাঁশ ও কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ৯০ টি মাচা করা হয়েছে। প্রতিটি মাচায় সর্বনিম্ন পাঁচজন থেকে সর্বোচ্চ আটজন পর্যন্ত মাছ ধরতে বসেছেন। প্রতি মাচার ফি ১৭ হাজার টাকা করে। এছাড়া ১০ টি ভিআইপি মাচা করা হয়েছে, যেখানে জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপারসহ গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মৎস্য শিকার করবে ৯০ টি মাচায় ৫শতাধিক মাছ শিকারি অংশ নেন। ধর্মসাগরের পশ্চিম ও পূর্বপাশে সাধারণ জনগণ ও উত্তর, দক্ষিণ পাড়ে ভিআইপিরা মাছ শিকার করেছে।
মৎস্য শিকার করতে আসা হেলাল উদ্দিন মজনু বলেন,শনিবার দুপুরে মাছের খাদ্য ছিটিয়েছি,এখন পর্যন্ত ২-৩ কেজি ওজনের মাছ পাচ্ছি। আজ শেষদিন বড় সাইজের মাছ এখনো পাইনি। তবে মাছ পাওয়াটা বড় বিষয় নয়, সবাই মিলে আনন্দটা উপভোগ করাই আসল মজা। সফল আয়োজনের জন্য আয়োজক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার কামরুজ্জামান বলেন, এটা একটা উৎসবের মতো। বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে দূরের জেলা থেকেও মানুষ এসেছে। আমরা প্রতিবছর আয়োজনের করি । গত বছর করোনার কারণে উৎসব করতে পারিনি।এদিন আসলে শিকারিদের মাঝে ঈদের দিন মতো। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছে।
উল্লেখ্য, জেলার ১৪৫৮ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজ ধর্ম মাণিক্য বর্তমান কুমিল্লা নগরের ২৩ দশমিক ১৮ একর জায়গা দিঘি হিসেবে খনন করেন পানির সংকট মেটাতে। রাজার নামানুসারে এর নাম রাখা হয় ধর্মসাগর দিঘি।