বুধবার ২৯ †m‡Þ¤^i ২০২১


কুমিল্লার সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি হুমকির মুখে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.09.2021

জসিম উদ্দিন চৌধুরী
কুমিল্লার সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩.৯৩ একর জায়গা নিয়ে শচীনদেব বর্মণের বাড়ির সাথে খামারটির অবস্থান। ৬৫ বছরের এই খামারটি জৈবিক সুরক্ষার অভাবে হুমকির মুখে। সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি কাক্সিক্ষত সফলতা পাচ্ছে না।
কুমিল্লার গ্রামের মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।খামার প্রতিষ্ঠালগ্নে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, পালন, ডিম উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ সেবা প্রদান করা হতো। বর্তমানে মুরগির বাচ্চা পালন, মুরগির বীজ ডিম উৎপাদন করা হচ্ছে। খামারে উৎপাদিত মুরগির বীজ ডিম সমূহ ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ভ্যাকসিন উৎপাদন শাখায় প্রেরণ করা হয় এবং পালনকৃত মুরগির বাচ্চা কৃষক ও খামারিদের মাঝে বিক্রি করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকল শেডের নেট জরাজীর্ণ। ২টি শেডে মুরগি পালনের অনুপযোগী এবং সেগুলোর ছাদ দিয়ে পানি পড়ে।আবাসিক ভবনগুলিতেও ছাদ দিয়ে পানি পড়া, দরজা জানালাসহ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খামারের চারপাশের সীমানা প্রাচীর নিচু হওয়ায় দিনে-রাতে বহিরাগতরা প্রবেশ করে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি করে। শচীন দেব বর্মণের বাড়ির অংশ হিসেবে ০.৮০একর জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর দেওয়ায় ১১,১২,ও১৩নং শেডটি মূল ফটক থেকে আড়ালে পড়ে যায়। যার কারণে বহিরাগতদের আড্ডা ও চুরি বেড়ে যায়। খামারের বাউন্ডারির ভিতরে হাঁটু সমান আগাছা ও জঙ্গলে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার কুমিল্লার উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খামাটির বাউন্ডারির মধ্যেই অবস্থানরত এসডি বর্মণের বাড়িটি বর্তমানে আলাদা বাউন্ডারির মধ্যে রেখে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। যার জন্য একদিকে বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদির কারণে কোলাহলযুক্ত পরিবেশ কাক্সিক্ষত ডিম উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত শব্দ দূষণের কারণে ভয় আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে অত্যধিক লাফালাফিতে মুরগি হার্ট অ্যাটাক করে এবং পেটের ভিতরে ডিম ভেঙে যাওয়ার কারণে মুরগি মারা যায়। খামারের বাউন্ডারি চারপাশে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে মানুষ বসবাস করছে। বাসাবাড়ি থেকে সাউন্ড বক্স দিয়ে উচ্চ সুরে গান বাজনা, রান্নাঘরের ময়লা আবর্জনা,পলিথিন ফেলে খামারের ভিতরের পরিবেশ নষ্ট করছে। এই সকল খামারের জন্য কোলাহলমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।যখন খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, তখন চারপাশে আবাসিক ভবন ছিলো না। বর্তমানে খামারটি জৈবিক সুরক্ষার অভাবে কাক্সিক্ষত সফলতা পাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার, কুমিল্লাকে অন্যত্রে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।