রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » নূর হোসেনের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে ভাই-ভাতিজা


নূর হোসেনের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে ভাই-ভাতিজা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.01.2017

চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের রেখে যাওয়া সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তার ভাই, ভাতিজা ও তার ঘনিষ্ট সিটি করপোশেনের কাউন্সিলর আরিফুল হাসান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাত খুনের পরেই পরিবার পরিজন নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায় নূর হোসেন। এলাকাছাড়া হন নূর হোসেনের পাচঁ ভাই, ভাতিজা ও কাউন্সিলর আরিফুল হাসানসহ তার সমর্থকরাও।

২০১৫ সালে নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই সুযোগে নূর হোসেনের ভাই ও ভাতিজারা আস্তে আস্তে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। নূর হোসেনের রেখে যাওয়া বিভিন্ন অবৈধ সম্পদ নিজেদের করার পাশাপাশি জমি দখল, ফুটপাতে চাদাঁবাজি, শীতলক্ষ্যার ঘাট দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপকর্ম শুরু করেন। কেউ বিরোধিতা করলে তাকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে নূর হোসেনের সাম্রাজ্য দখল করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন তারই ঘনিষ্ঠরা। তাদের মধ্যে আছেন নূর হোসেনের বড় ভাই নূর সালাম, নূর ইসলাম, নূর উদ্দিন, নূরুজ্জামান জজ, ভাতিজা সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহ জালাল বাদল এবং নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুল হাসান।

এদের মধ্যে নূর হোসেনের বড় ভাই নূর সালাম ও নূর ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জের সানাপাড়, বাগমারা, টেকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার জমি দখল করছেন। পরিবহন সেক্টর ও ফুটপাতে চাদাঁবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন ভাতিজা শাহ জালাল বাদল।

শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে বালু, পাথরের ব্যবসা, শিমরাইল এলাকায় গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাদাঁবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন নূর হোসেনের ঘনিষ্ট আরিফুল হাসান।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ঢাকার ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের গাড়ি চালক জাহাঙ্গীরকে ।

ওই ঘটনা দেখে ফেলায় নজরুলের গাড়ির পেছনে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমও অপহৃত হন।

তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে মেলে ছয়জনের লাশ। ১ মে নজরুলের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটনের লাশও নদীতে ভেসে ওঠে। প্রত্যেকের পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন; প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তায় বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

লাশ উদ্ধারের পর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন, যার তদন্ত চলে একসঙ্গে।

চাঞ্চল্যকর সাত খুনের এই মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত; এ মামলার ৩৫ আসামির মধ‌্যে বাকি নয়জনকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড।

নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন সোমবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।