রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশির প্রথম স্থান


মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশির প্রথম স্থান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.06.2017

আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পুরস্কার দিচ্ছেন আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। মিসরের একটি টিভি চ্যানেল থেকে নেওয়া ছবিমিসরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত ২২ জুন তার হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। গত এপ্রিলে গ্র্যান্ড নাইল টাওয়ারে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ২৪তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে মিসরের ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ীর তাহফিজুল কোরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ কারি নাজমুল হাসান। তিনিও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটালাইজড হচ্ছে মামুনের মাদ্রাসা

হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুনের শিক্ষার সমস্ত ব্যয়ভার প্রদানের ঘোষণার পর এবার তার মাদ্রাসাকে পরিপূর্ণ ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মিসর শাখার সভাপতি ও প্রবাসী ব্যবসায়ী এ জি এম সাইদুল হক। কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করায় তখন তার লেখাপড়ার সমস্ত ব্যয়ভার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এবার তিনি ওই মাদ্রাসাকে পরিপূর্ণ ডিজিটালাইজড করার ঘোষণা দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন (বাঁয়ে)হাফেজ কারি নাজমুল হাসান মিসর সফরকালে এ জি এম সাইদুল হক ও মিসরের আরবি ই এডুকেশন টেকনোলজি প্রোভাইডার আইডিয়া ইনোভেটিভের প্রকৌশলীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে আগামী ছয় মাসে তাহফিজুল কোরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদ্রাসা পরিপূর্ণভাবে আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষা সমৃদ্ধ একটি পরিপূর্ণ আইসিটি বেজ মডেল মাদ্রাসা হিসেবে তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ই-ক্লাস, ই-অ্যাটেন্ডেন্টস, মোবাইল অ্যাপস বেজ ম্যাটেরিয়াল, ক্লাউড অ্যাকাউন্টিং, ক্লাউড ইনভেনটরি, জিপিএস ভেহিকল ট্র্যাকিং, ক্লাউড ফিঙ্গার প্রিন্ট বেজ সেন্ট্রাল সিস্টেম, কাস্টমাইজড ক্লাউড শেয়ারিংসহ অনেক অত্যাধুনিক ফিচার এই সফটওয়্যারে ব্যবহার করা হবে। তবে এই সফটওয়্যারের বিশেষ আকর্ষণ থাকবে অনলাইন লাইব্রেরি। ইংরেজি ও বাংলার পাশাপাশি এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দুষ্প্রাপ্য ও বিভিন্ন ধরনের আরবি কিতাবের সংগ্রহ থাকবে। যা মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের অ্যাকাউন্ট দিয়ে মোবাইল অথবা কম্পিউটারের সাহায্যে লগইন করে পড়তে পারবেন।
এ ছাড়া ছাত্রদের সুবিধার্থে মাদ্রাসার কম্পাউন্ডে ক্লাউড বেজ ইন্টারনেট ওয়াইফাই জোন গড়ে তোলা হবে। উচ্চমানের সিকিউরিটি সিস্টেমের সাহায্যে তথ্য সুরক্ষা ও অপপ্রয়োগ রোধ করা হবে। আর এই প্রকল্পের পুরো ব্যয়ভার বহন করবেন এ জি এম সাইদুল হক।
এ বিষয়ে হাফেজ কারি নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের মাদ্রাসা একাধিকবার বিশ্বসেরা পুরস্কার পাওয়া প্রতিষ্ঠান। তবে এখনকার ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রয়োজন ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা। মিসরে এসে দেখলাম এখানকার উন্নত ফিচার সমৃদ্ধ ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি। আমাদেরও ইচ্ছা এমন একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। কিন্তু সফটওয়্যার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি অনেক ব্যয়বহুল। যা আমাদের অনুদানবিহীন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন এ জি এম সাইদুল হক ভাই। ইনশা আল্লাহ আগামী জানুয়ারি থেকে আমরা পরিপূর্ণ ডিজিটাল মাদ্রাসা হিসেবে যাত্রা শুরু করব।
এ জি এম সাইদুল হকের সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নাজমুল হাসান (ডানে)বাংলাদেশে মিসরের টেকনোলজি ফার্মের হয়ে ইনস্টল ও মেইনটেন্যান্স সেবা দেবে টালি অ্যাকাউন্টিং সলিউশনের সুপরিচিত গ্লোবাল ডিজিটাল মার্ট। আগামী আগস্ট মাসে গ্লোবাল ডিজিটাল মার্টের প্রকৌশলীরা প্রশিক্ষণের জন্য মিসর আসবেন।
অর্থায়নসহ সার্বিক বিষয়ে এ জি এম সাইদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা দান করা বা সহায়তা বলতে শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা বা এতিমখানা-লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে খাবার অথবা বিল্ডিং নির্মাণের জন্য টাকা দান করা মনে করি। কিন্তু বর্তমান যুগে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। আর যে মাদ্রাসা থেকে হাফেজ মামুনের মতো ছাত্র সৃষ্টি হয়, প্রযুক্তির ছোঁয়া পেলে এই মাদ্রাসা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি একটি মাদ্রাসার ডিজিটালাইজেশনের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। আশা করি অন্যান্যরাও নিশ্চয় একইরকম অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এগিয়ে আসবেন। এভাবেই ইসলাম ও সর্বোপরি আমাদের জাতি সামনে এগিয়ে যাবে। উন্নত সহজলভ্য জ্ঞানের আলোয় ভরে উঠবে দেশ। নির্মূল হবে জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা।

সূত্র: প্রথম আলো