শনিবার ১৮ †m‡Þ¤^i ২০২১


কুবিতে আবারো বেপরোয়া ছাত্রলীগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.07.2018

স্টাফ রিপোর্টার ।।
কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচেছ না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে। রাজনীতিমুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ এতটাই বেপরোয়া যে অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোও তাদের সামনে দাঁড়াতেই পারছে না।
প্রতিদিনই ছোট বড় কোন না কোন সংঘের্ষে জড়াচ্ছে শাখা ছাত্রলীগের বেশ কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতা কর্মী। এ নিয়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। ঘটনাগুলো প্রশাসনের নজরে আসলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এমন ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচেছ বলে মনে করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কুবি প্রশাসনের গোপন মদদে ছাত্রলীগ এখন সমস্ত আইনের ঊর্ধ্বে, এমনই মনোভাবে চলছে তারা- জানালেন নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী।
কুবি শাখা ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে ১৮ জুলাই বুধবার ও ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ঘটেছে দুটি পৃথক মারধরের ঘটনা। বুধবারের ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের বেধড়ক মারধরের শিকার হয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকবাল খাঁনকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এসব সংঘর্ষে আহত হয় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ১৮ জুলাই বুধবার ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১১ তম ব্যচের মাঈন নামে এক শিক্ষার্থীর সাথে একই বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালমানের কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনার এক পর্যায়ে সালমান উত্তেজিত হয়ে বিভাগের সিনিয়র মাঈনের গায়ে হাত তোলে। ওই ঘটনার সমঝোতার জন্য মাঈন তার বিভাগের সিনিয়র ৯ম ব্যাচের ইকবাল খানসহ কয়েকজনের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। ইকবাল তার বিভাগের জুনিয়র সালমানকে ডেকে আনে ঘটনা জানার জন্য। এতে সালমান উত্তেজিত হয়ে সেখান থেকে চলে গিয়ে পরে হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীকে নিয়ে এসে ইকবালসহ তার বন্ধুদের ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে বেধড়ক মারধর করে। এতে ইকবাল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
মারধরের নেতৃত্ব দেওয়া প্রত্যেকেই কুবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এরা হলেন কুবি শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আহমেদ আলী বুখারী, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক হিসাব ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুনতাসির আহমেদ হৃদয়, উপ-মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক লোক প্রশাসন বিভাগের মো. এনায়েত উল্লাহ, সদস্য হিসাব ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. মিরাজ খলিফা, ছাত্রলীগ কর্মী একই বিভাগের রাফিউল আলম দীপ্তসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ ও ১২ তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী।
এছাড়া বুধবার (১৮ জুলাই) বাসে সিট রাখাকে কেন্দ্র করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলামকে ক্যাম্পাসের প্রধান গেটের কয়েক হাত দূরেই বেধড়ক মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। যাদের মধ্যে অনেকেই ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবারের মারধরের সঙ্গে জড়িত।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আহমেদ আলী বুখারী ও মুনতাসির আহমেদ হৃদয় এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত বছরের ২০ডিসেম্বর শাখা ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার হয় এবং পরবর্তীতে ১০মে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এছাড়াও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা এবং মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে নিজদলীয় নেতাকর্মীদেরও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশকয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, যেখানে ছাত্রলীগ আমাদের সহযোগিতা করার কথা সেখানে ছাত্রলীগ নামটি আমাদের কাছে কেবলই আতঙ্কের নাম। ছাত্রলীগের এ ধরনের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীর জন্যই ক্যাম্পাসে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে। কিন্তু এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরের মতই নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস সবুজ জনান, ‘আমি শুনেছি র‌্যাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মাজেদ জানান, ‘আজকের মারধরের ঘটনাটি ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে কোন অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। তবে বিভাগের শিক্ষকরা এ বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’
এ দিকে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রলীগ এককভাবে রাজনীতি করে আসছে। ছাত্রলীগের পেশীশক্তির কারণে এবং কুবি কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দাঁড়াতেই পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দিকে, ছাত্রলীগ-শিবির, ছাত্রলীগ বনাম ছাত্রলীগ ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পরে একটা পর্যায়ে ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবির নীরব হয়ে গেলে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ চালিয়ে তাদের আধিপত্য জানান দিয়ে আসছে। বর্তমানে ছাত্রলীগ এককভাবে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা হামলা অত্যাচার নির্যাতন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কুবির সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। এ নিয়ে একাধিকবার আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা। কিন্তু অদৃশ্য কারণে কুবি কর্তৃপক্ষ কখনো দৃশ্যমান কোন বিচার করেনি। ফলে বেপরোয়া ছাত্রলীগ ক্রমেই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর থেকে প্রতিকার চায় সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা।