রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Space Advertisement
Space For advertisement


ইজ্জতের মূল্য ১০ হাজার, তাও বাকিতে!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.08.2018

বরুড়ায় ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

শাহ ফয়সাল কারীম, বরুড়া থেকে ফিরে।।
বরুড়া উপজেলার পৌর এলাকার দেওড়া গ্রামে ৭ বছরের শিশু ধর্ষিত হয়েছে। প্রতিবেশী কৃষক মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৬২) শিশুটিকে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
মেয়ের মা ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, ৩১ জুলাই মঙ্গলবার শিশুটি খেলা করার জন্য তার খেলার সাথী ধর্ষক মিজানুর রহমানের নাতনিকে ডাকতে তার ঘরে গেলে সে মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটির খেলার সাথী ও অপর একজন শিশু ঘটনাটি দেখে ফেলে। সেদিন ছিল বৃষ্টির দিন। অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছিল। তাই আশেপাশের লোকজন মেয়েটির চিৎকার শুনতে পায়নি। পরে শিশুটি তার নানা ও নানিকে ঘটনাটি খুলে বলে।
অসহায় নানা-নানিকে প্রভাবশালী মহল চাপ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হুমকি দেয়। পরে সালিশের নামে করে প্রহসন। মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষককে ছেড়ে দেয় স্থানীয় সর্দাররা। সালিশের ১০-১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত জরিমানার ১০ হাজার টাকা পায়নি ভিকটিমের পরিবার। একজন মেয়ের ইজ্জতের দাম মাত্র ১০ হাজার টাকা, তাও বাকিতে!
মেয়েটির মা কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমি একজন জনম দুখী মানুষ। মেয়েটিকে পেটে রেখেই তার বাবা প্রবাসে পাড়ি জমায়। এখন পর্যন্ত আমার ও তার সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেয় না। আমি কুমিল্লা ইপিজেড চাকরি করি। সে দিন বাড়িতে ছিলাম না। আমার মেয়েটির জীবন নষ্ট করে দিল পাষ- মিজান। আমি এর বিচার চাই।’
পরক্ষণেই মামুন নামে স্থানীয় এক সালিশদার এসে ক্যামেরায় কী সব সাক্ষাৎকার দিচ্ছিস বলেই শিশুটির মাকে উঠিয়ে দেয়। বিচার শেষ এখন আপনারা ( সাংবাদিকদের) কেন এসেছেন বলেই ভিকটিমের নানি ও নানাকে গালাগালি শুরু করে দেয়। আপনি এমন করছেন কেন জিজ্ঞাসা করাতে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলে, ‘যান, যা পারেন করেন। ভিকটিম বিচার চায় না। বিচার শেষ।’
স্থানীয় লোকজনের ভয়ে ভিকটিম পরিবার মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। সালিশে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ভূইয়া বাড়ির রিপন ভূইয়া, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে চলা মামুনসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিষয়টি ন্যাক্কারজনক । কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।