শনিবার ১৮ †m‡Þ¤^i ২০২১


কসবা সীমান্ত হাটে যেতে পারেনি ক্রেতারা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.08.2018

কসবা (ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করা ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত হাটে গতকাল রোববার থেকে বাৎসরিক কার্ড ছাড়া কাউকে যেতে দেওয়া হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একদিনের প্রবেশপত্র (পাস) না দেয়ায় শতশত ক্রেতা হাটে কেনা-কাটা করতে পারেনি। এতে করে ব্যবসায়ীদের মালামাল বিক্রি করতে না পেয়ে ফেরত আনতে বাধ্য হয়েছে। লোকসনা গুনতে হচ্ছে তাদেরকে। এর আগে প্রতি রোববার প্রতি দেশ থেকে এক হাজার ব্যক্তিকে হাটে কেনাকাটা করতে প্রবেশপত্র (পাস) দেয়া হত।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে; প্রত্যেক রোববার যথারীতি এ হাট বসে। বাৎসরিক কার্ডছাড়াও প্রত্যেক দেশের ১ হাজার ব্যক্তিকে একদিনের পাস দেয়া হত। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা গত ২৯ জুলাই সীমান্ত হাটে ভারতীয় কোন ক্রেতাকে প্রবেশ করতে দেয়নি । বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কোন মালামাল বিক্রি করতে পারেননি। অথচ বাংলাদেশি ক্রেতাদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। প্রত্যেক ব্যবসায়ী কমপক্ষে ৭০থেকে ৮০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি করেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা গত ৫ আগস্ট সীমান্ত হাটে দোকান না বসিয়ে হাটের বাইরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।
এদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গতকাল রোববার একদিনের পাস বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এতে করে দুই দেশের বাৎসরিক কার্ড ছাড়া কাউকে হাটে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশে হাটের বাইরে শতশত ক্রেতা অপেক্ষা করলেও পাস না থাকায় হাটে যেতে পারেনি। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বাৎসরিক কার্ড নিয়ে মাত্র ৩৯ জন এবং ভারতীয় বিএসএফের হিসেব অনুযায়ী ৩০ জন ক্রেতা হাটে কেনা-কাটা করতে প্রবেশ করেছেন। এতে করে ব্যবসায়ীরা মালামাল বিক্রি করতে পারেনি। মালামাল ফেরত নিতে বাধ্য হয়েছে।
বাংলাদেশি কাপড় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন; হাটে ভারত থেকে মাত্র ৩০জন ক্রেতা প্রবেশ করেছে। মাত্র ৩শ টাকা তিনি বিক্রি করেছেন। দোকানের মালামাল ছাড়াই হাটে মালামাল নিতে গাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য মিলিয়ে খরচ হয় ১১শ টাকা। লাভ তো দূরের কথা প্রতি হাটে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন; আগে প্রতি হাটে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারতেন।
ভারতীয় কলা ব্যবসায়ী কালু মিয়া বলেন; আগে প্রতি হাটে ৭০থেকে ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন। গতকাল রোববার মাত্র ৭/৮ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন। কলা ফেরত নিতে গিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
ভারতীয় প্রসাধনী ব্যবসায়ী মনিস চন্দ্র বলেন; প্রতি হাটেই প্রায় দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু হাটে একদিনের পাস বন্ধ করে দেওয়ায় দুই দেশের লোকজন আসতে পারছেন না। এ কারণে গতকাল রোববার মাত্র ১০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এভাবে চলতে থাকলে সামনে দোকান নিয়ে আসা সম্ভব হবে না। তার মতে প্রত্যেক ব্যবসায়ীই লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কসবা সীমান্ত হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য ও কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিনা ইসলাম বলেন; নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের ৫ কিলোমিটারের অধিবাসীরা সেখানে কেনাকাটা করবেন। অন্য এলাকার কেউ আসতে পারবে না। তবে এর আগে ৫ কিলোমিটার এলাকার অধিবাসীদের বার্ষিক কার্ড দেয়া হত এবং একদিনের জন্য এক হাজার ব্যক্তিকে হাটে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হত। ২৯ জুলাই থেকে এক দিনের অনুমতি বন্ধ করে দেয়ায় এ সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রোববার থেকে এক দিনের পাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাৎসরিক কার্ডধারীরা যেতে পারবেন। তিনি আরো বলেন; একদিনের পাসের বিষয়ে দুই দেশের হাট পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত একদিনের পাস বন্ধ থাকবে।