শনিবার ১৮ †m‡Þ¤^i ২০২১


‘ঈদ এলে মেয়ের কথা বেশি মনে পড়ে’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.08.2018

তনু হত্যার ২৯ মাস

স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ২৯মাস পূর্ণ হবে ২০আগস্ট। দীর্ঘ সময়েও তনুর খুনিরা শনাক্ত হয়নি। খুনিরা চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তনুর পরিবার এবং কুমিল্লার বিশিষ্টজনরা। তনুর পরিবার সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন। তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেছেন, মেয়ে ছাড়া আরেকটি ঈদ আসছে। ঈদ এলে মেয়ের কথা বেশি মনে পড়ে। নিজের মনকে বুঝাতে পারিনা। আমাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। তনু থাকলে সব প্রস্তুতি নিতো।
তনুর পরিবারের সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি তনু। পরে তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর ২০১৬ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা- এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।
গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ‘তনুকে একটি সুরক্ষিত স্থানে হত্যা করা হয়েছে। ২৯মাসেও কোন আসামি শনাক্ত করা যায়নি। যা কোনো ভাবে মেনে নেয়া যায়না। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি করছি।’
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সাবেক সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন,‘দীর্ঘদিনেও তনুর হত্যার কোনে ক্লু উদ্ধার না হওয়া দুঃখজনক। আসামিদেও দ্রুত সনাক্তের দাবি জানাচ্ছি।’
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকারী কে বেরিয়ে আসবে। কারণ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে যাওয়ার পর জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। দেখছি দেখছি বলে সিআইডি ২৯মাস পার করেছে। আমরা এখন বসে তনু হত্যাকা-ের মাস গুনি।কোথাও কোন আশার বাণী শুনতে পারছি না। এখন সিআইডিও আর খবর নেয় না। আরও একটা ঈদ এসেছে। ঈদ এলে মেয়ের কথা বেশি মনে পড়ে। আমাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। তনু থাকলে সব প্রস্তুতি নিতো। তনুর বাবার শরীর ভালো নেই। আমার অবস্থাও ভালো নয়। ছোট ছেলে রুবেল চাকরি ছেড়ে বাসায় অবস্থান নিয়েছে। সে আমাদের খাবার তৈরি করে দেয়। তিনি আরো বলেন, আমরা গরিব বলে তনুর হত্যাকারীদের বিচার হচ্ছে না। এখন আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া কোনো পথ দেখছি না। ’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সন্দেভাজন কয়েকজনের ডিএনও রিপোর্ট সহসা পাবো বলে আশা করছি। এদিকে সন্দেহভাজন আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’