রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Space Advertisement
Space For advertisement


নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.02.2019

# অব্যবস্থাপনার ফলে কালে ভদ্রে মিলে দর্শণার্থী

আবু সুফিয়ান রাসেল।।

বৃহত্তর কুমিল্লার মানুষের একমাত্র সরকারি বিনোদন প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন। ১৯৮৬ সালে ১০ একর জমি নিয়ে তৈরি হয় এটি। তবে দিনদিন তা হারাচ্ছে আপন ঐতিহ্য। প্রতিদিন শহর ও শহরের বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীরা নিয়মিত হতাশ হয়ে ফিরছেন। আগের মতো আর মানুষ আসে না এ পর্যটন কেন্দ্রে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে প্রতিদিন দৈনিক গড়ে ৪০-৪৫ জন দর্শনার্থী আসে চিড়িয়াখানায়।অথচ গত দুই বছর আগেও তা ছিল কয়েক শতাধিক। ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ সিংহ যুবরাজের মৃত্যুর পর হাতাশা আরো বেড়ে যায়। দর্শকদের দৃষ্টি আকষর্ণ করার নেই কোন পাখি বা প্রাণী। ১৯টি খাচাঁর প্রায় খাঁচা শূন্য পরে আছে। কিছু খাঁচাতে এখন মোরগ বসবাস করে।
জেলা পরিষদ নি¤œমান সহকারী কিশোর কুমার দেবনাথ বলেন, চিড়িয়াখানায় এখন হরিণ ৩, বানর ৮, অজগর ২, টার্কি মোরগ ২, তিথি মোরগ ২, হনুমান ১, বক পাখি ২, তিথি মোরগ ২ ও একটি চিলসহ আরো কিছু প্রাণি আছে। শিশুদের জন্য রয়েছে সপেধন নীলমনি হিসেবে শাান্তা-মরিয়ম নগর দোলা আছে।
কুমিল্লা চিড়িয়াখানা কেমন লেগেছে? এমন প্রশ্নে শাফায়াত মিয়াজী নামে একজন দর্শণার্থী জানান, যে সমস্ত ছেলে মেয়ে যারা জোড়া জোড়া আসে তাদের লাভ, সাধারণ মানুষের টিকেটের টাকাটাও লস। পশু কী দেখবো, কিছু দর্শণার্থীর কর্মকান্ড এখানে পশুর মতো দেখলাম। তারা দর্শক নয় ধর্ষক, কেউ প্রকাশ্য কেউবা লুকায়িত ভাবে। প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়টির সমাধাণ করবে বলে আশা করি।
ইজারাদার মো. আনিসুর রহমান জানান, আগের ২০ ভাগের এক ভাগ দর্শনার্থীও এখন আসেনা। আসলে দেখার মতো তেমন কিছু নেই, মানুষ কেন আসবে? বের হয়ে যাওয়ার সময় মানুষ আমাদের গালমন্ধ করে। দেওয়াল ভাঙ্গা, পশু-পাখি নাই, ভিতরে চলাচলের রাস্তা নাই। তিন বছরের জন্য ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে লিজ নিয়েছি। এখন লাভ তো দূর থাক চালান উঠানোর চিন্তায় আছি।
কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক বশির জানান, আমরা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আশাকরি এক/দেড় বছরের মধ্যে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের চিত্রের উন্নতি হবে। এখানের ড্রেনকে লেকে রূপান্তর করা হবে। চারদিকে নতুন দেয়াল তৈরী করা হবে। পুকুরের চার দিকে ওয়াল নির্মানের বিষয়টিও আলোচনায় আছে। নতুন কিছু প্রাণী আনার বিষয়ে আমরা যোগাযোগ করছি।