মঙ্গল্বার ১৮ †g ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » বিল গেটসের জলবায়ু ভাবনা অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ


বিল গেটসের জলবায়ু ভাবনা অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.03.2021

গ্রীন হাউস গ্যাসের নি:সরন শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনা পূর্বেও যেমন প্রয়োজনীয় ছিল এখনও তা অত্যাবশ্যকীয়। নি:সরনের উৎস বন্ধ না করে শুধুমাত্র নি:সরন এর মাত্রা কমিয়ে আনার বিষয়টি অসম্ভব। “হাউ টু অ্যাভয়েড এ ক্লাইমেট ডিজাষ্টার” পুস্তকে বিলগেটস বলেছেন বিগত কয়েক বছরে ৩টি বিষয়ে তিনি সুনিশ্চিত হয়েছেন-
(১) জলবায়ু দুর্যোগ এড়াতে হবে। আমাদের গ্রিনহাউস গ্যাসের নি:সরন শুন্যে নামিয়ে আনতে হবে।
(২) উপকরনের মধ্যে সহজপ্রাপ্য বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তি যা আছে তা দ্রুততার সাথে উদ্ভাবনী উপায়ে ব্যবহার করতে হবে।
(৩) আমাদের যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন ছড়িয়ে দিতে হবে। যা আমাদের সম্মুখের বাকী পথ পাড়ি দিতে সহযোগিতা করবে।
বিলগেটস ২০০৬ সালের শেষের দিকে মাইক্রোসফটের দুই সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তাঁহারা জ্বালানী ও জলবায়ুর উপর কাজ করছিলেন যা ছিল অলাভজনক। সাক্ষাতে তাঁরা দুজন জলবায়ু বিজ্ঞানী নিয়ে আসেন। যাঁদের ঐ দু’বিষয়ে পান্ডিত্য ছিল। গ্রিনহাউস গ্যাসের নি:সরনের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক বিষয়ক তথ্য উপাত্ত তাঁরা চারজন বিলগেটসকে দেখান। বিল গেটস জানতেন গ্রিনহাউস গ্যাস তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। তিনি এ ধারনা পোষন করতেন যে, চক্রাকারে আবর্তিত কিছু বিষয় বা উপায় উপকরন রয়েছে। যা প্রাকৃতিকভাবে সত্যি সত্যিই জলবায়ু বিপর্যয় রোধ করতে সক্ষম। আর গ্রিন হাউস গ্যাস নি:সরন যে কোন মাত্রায় অব্যাহত থাকলেও তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে- এটা মেনে নেয়া ছিল কঠিন ব্যাপার। বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্ন নিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার ঐ দলের কাছে ফেরত গিয়েছেন। কার্যত সে চেষ্টা বিফলে গিয়েছে। চরম দারিদ্রের মাঝে বসবাসকারী মানুষ যাতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে তাদের অধিকতর জ্বালানী সুবিধা প্রদান করা বিশ্বের প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এমন জ্বালানী সরবরাহ করা দরকার, যা আর কোন গ্রিনহাউস গ্যাসের নি:সরন ঘটাবে না।
ক্লাইমেট ডিজাষ্টারের উপর বইটি লেখার কারন সম্পর্কে বিল গেটস বলেছেন, তিনি শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাই দেখতে পান নাই। এ সমস্যা সমাধানের সুযোগও দেখছিলেন। এটা কোন অবাস্তব আশাবাদ নয়। বড় কোন পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে তিনটি প্রয়োজনীয় উপকরণের মধ্যে দুটি আমাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। প্রথমত, আমাদের উচ্চাকাঙ্খা। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সচেতন তরুন প্রজন্মের নেতৃত্বে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আন্দোলন ধন্যবাদ পেতেই পারে। দ্বিতীয়ত, সমস্যাটা সমাধানে আমাদের বড় বড় লক্ষ্য রয়েছে। নিজেদের অবস্থান থেকে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতিশীল জাতীয় ও স্থানীয় নেতাদের সংখ্যা বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। আমাদের এখন তৃতীয় উপাদানটি প্রয়োজন এবং তা হচ্ছে- লক্ষ্য অর্জনের সুদৃঢ় পরিকল্পনা। জলবায়ু পরিস্থিতি কল্যানের স্বার্থে আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারন করেছি। এখন প্রয়োজন বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা। যাতে ভূমিকা রাখতে হবে-পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অন্যান্য বিভাগসমূহ। বিল গেটসের বইয়ের শেষের দিকে একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব আছে। যা তিনি এসব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পেয়েছেন। বইটির দশম ও একাদশ অধ্যায়ে সবার জন্য এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব করেছেন যা আমরা সবাই নিতে পারি এবং যা বৈশ্বিক নি:সরন শুন্যে নামিয়ে আসতে সহায়ক হবে। আপনি ক্ষমতাসীন নেতা, উদ্যোক্তা অথবা ভোটার- যে ই হোন না কেন, জলবায়ু দূর্যোগ এড়াতে আপনারও কিছু করার সুযোগ রয়েছে। শেষের দিকে তিনি বলেছেন- আর কিছু বলার নাই। আসুন কাজ শুরু করা যাক- এ আবেদনটিই এ প্রস্তাবের উত্তম উপাদান বলা যায়।

 

 সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

সভাপতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা অঞ্চল