রবিবার ৯ †g ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » আখের রস বিক্রি করেই ছেলেকে উকিল বানালেন মোস্তাক


আখের রস বিক্রি করেই ছেলেকে উকিল বানালেন মোস্তাক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.04.2021

আবদুল্লাহ আল মারুফ।।
মোস্তাক মিয়ার বয়স ৭০। কুমিল্লার প্রাণকেন্দ্র টাউনহল মাঠের এক কোণে বিক্রি করেন আখের রস। কট কট আওয়াজ দিয়ে স্টার্ট দেন মোটরের বিশেষ ধরনের যান। পরে এক এক করে তৈরি করে রাখা ছোলা আখ মেশিনে চিবিয়ে রস বের করে সেই রস ভর্তি গ্লাস তুলে দেন তৃষ্ণার্ত ক্রেতাদের হাতে। সাথে আছেন ভাতিজা মোক্তার আলী। চাচার বর্তমান সহযোগী মোক্তার। তিনি চাচার ব্যস্ত সময়ে আখ থেকে ছোলা ছাড়ান। মাঝে মাঝে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকাও নেন। আবার মেশিনেও আখও চিবান।
কুমিল্লা আদর্শ সদরের চানপুর বন্দিশাহ মসজিদ এলাকার বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া। জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় কাটিয়েছেন আখের রস বিক্রি করে। সারাদিন আখ বিক্রির টাকায় পরেরদিন চলতো মোস্তাক মিয়ার সংসার। সব অভাব অনটনের মাঝে ছেলেদের লেখা পড়ার প্রতি ছিলেন সচেতন।
মোস্তাক মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানের মতো মেশিনের যোগ আরও ১৫ বছর আগে ছিল না। তখন হাতেই ঘুরাতে হতো মেশিনটি। আর তখন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতেন আখের রস। ভ্যান টেনে এলাকার পর এলাকা ঘুরে আখের রস বিক্রি করতেন। আয়ও ছিল মোটামুটি। আর তখন রাস্তায় আখের রস বিক্রিও ভালো ছিল। দিনে কয়েকশত টাকা আয় করতেন। এই আয়েই চলতো সংসার আর ছেলে মেয়ের পড়াশোনা। তবে তখনও জানতেন না এই আখ বিক্রেতার ছেলেই হবেন উকিল।
কথা বলার এক পর্যায়ে ছেলে মেয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে কান্না জড়িত কণ্ঠে আক্ষেপ করেই বলে উঠলেন, ‘বাবারে আঁই মুরুখ্য মানুষ। কিন্তু আঁর পুতে কুমিল্লা জর্জকোটের উকিল। অনার্স মাস্টার্স শেষ কইরা সে এলএলবি কইরা এখন উকিল। আর মেজু ছেলে বিদেশে। ছোট ছেলে কলেজে পড়ে।’

দীর্ঘদিন পেশার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘অভিজ্ঞতার আর কি বলার, দিনে আয় করি রাইতে খাই। তবে এখন সময় খারাপ বেচা কিনা কম। তার মইধ্যে খোলা জিনিস বইলা অনেকে খাইতে চায় না। আগে আয় কম থাকলেও ব্যায় কম ছিল। জিনিস পত্রের দাম কম ছিল। আর এখন অনেক বেশি। দিনের আয় ৩ হাজার টাকা আর খরচ ২ হাজারের বেশি হয়ে যায়। তারপর আবার ভাতিজারে দিতে হয়। তবে এই ব্যবসা কইরা আমার ছেলেরে উকিল বানাইছি এটাই সবচেয়ে আনন্দের । ’