মঙ্গল্বার ১৮ †g ২০২১


এক যুগ ধরে সংস্কার নেই কুমিল্লা চিড়িয়াখানার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.04.2021

আবু সুফিয়ান রাসেল ।।
কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন। নগরীর প্রাণকেন্দ্রের একমাত্র সরকারি বিনোদন কেন্দ্র। এক যুগ ধরে সংস্কার নেই। নামে চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন হলেও এখানে নেই তেমন প্রাণি ও গাছ। নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাই দর্শনার্থী নেই বললেই চলে। তবে নতুন ভাবে ঢেলে সাজালে অনেক সংখ্যক দর্শনার্থী আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ঠিকাদার।
সূত্রমতে, ১৯৮৬ সালে ১০ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন। চিড়িয়াখানা নতুন কোনো পশুপাখিও আনা হচ্ছে না অনেক দিন। অধিকাংশ খাঁচাই শূন্য। জলাবদ্ধতা কারণে বোটানিক্যাল গার্ডেন এখন বৃক্ষ শূন্য।
পাশের উপজেলা বুড়িচং থেকে স্ব-পরিচারের চিড়িয়াখানা দেখতে এসেছেন প্রবাসী আলমগীর হোসেন। ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন, ২০ টাকার টিকেটে এখানে প্রবেশ করে পুরাই লস। দেখার মতো তেমন কিছু নাই। কর্তৃপক্ষ কোন কাজ করে না। এখানে যদি কেউ ফ্রিও প্রবেশ করে, তার সময় অপচয় হবে।
সামাজিক সংগঠক ও নাট্যব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট শহীদুল হক স্বপন বলেন, কুমিল্লায় এখন ৬০-৬৫ লক্ষ মানুষের বসবাস। জেলার একমাত্র চিড়িয়াখানার বেহাল দশা। নতুন প্রজন্ম প্রাণীদের সাথে পরিচয় হতে পারছে না। ধর্মসাগর ছাড়া নগরীতে তেমন কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। তাই আমি মনে করি, কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন দ্রুত সংস্কার করা দরকার। ঘনবসতিপূর্ণ এ জেলার মানুষ যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা পায়। শিশুরা যেন পশু-পাখি ও প্রাণির সাথে পরিচয় হতে পারে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বশির জানান, চিড়িয়াখানায় এখন কয়েক জাতের বানর, তিনটি বন মোরগ, চারটি মেছো বাঘ, অজগর সাপ , হরিণের তিনটি শাবক আছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনে তেমন কোন গাছ নেই। যে কাঠগাছ ছিলো, জলাবদ্ধতা গাছগুলো মরে গেছে।
ইজারাদার মো. আনিসুর রহমান জানান, গড় দৈনিক ৩৫-৪০ জন দর্শনার্থী আসে। ঈদ বা বিশেষ দিবসে একটু বেশী মানুষের আগমন হয়। তবে পশু-পাখির খাবার, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুত বিলসহ অনুসাঙ্গিক যে খরচ হয়। আমার লিজের টাকাও তুলতে পারবো না। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এ বিনোদন কেন্দ্র, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো। প্রশাসন যদি এটাকে আবার সংস্কার করে, তবে আশা করি প্রচুর মানুষ আসবে। আরেকটি দিক হলো বৃহত্তর কুমিল্লায় চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন নেই। তাই পাশের জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসবে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা হাঁটার পথ ও দেয়ালের কাজ করেছি। বোটানিক্যাল গার্ডেনে পানির যে সমস্যা, তা সমাধানের জন্য অনেক টাকার মাটি প্রয়োজন। এখানে দেশী-বিদেশী গাছ লাগোনো দরকার। তা পরিচর্যার দরকার। ১০ একর জমি ঢেলে সাজানোর জন্য যে বাজেট প্রয়োজন তা জেলা পরিষদের নেই। চিড়িয়াখানার জন্য আরও পশু-পাখি দরকার। তাই আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করেছি। ডিসি অফিস থেকে যদি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয়, তবে এখানে প্রচুর দর্শনার্থীর প্রবেশ ঘটবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, এটির অবস্থা আমি দেখেছি। কুমিল্লায় যোগদান করেছি নতুন। বিষয়টি সম্পর্কে আরও জেনে কি করলে ভালো হয়, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।